গ্রামের বাড়িতে লিমনের লাশ, মাগরিবের পর শেষ বিদায়
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। আজ সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে পৌঁছে লিমনের লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মাগরিবের পর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত শোকাবহ মানুষ লিমনকে শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান। এর আগে সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লিমনের মরদেহ নিয়ে অবতরণ করে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এ সময় লিমনের বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর লিমনের বাবা জহুরুল হক বলেন, বাবা হিসেবে আমার সবচেয়ে কষ্ট ও দুঃখ। আমার ছেলে দুইটাকে তিলে তিলে বড় করার চেষ্টা করেছি। কোনো প্রকার তাদের কষ্ট দিইনি। কোনো প্রকার শারীরিক কোনো শাস্তিও দিইনি। যা শাসন করেছি, মুখে শাসন করেছি। আমার ছেলেকে এভাবে যে মরতে হবে জানতাম না, আল্লাহ জানেন কী কষ্ট দেওয়া হয়েছে। এটাই আমার কাছে কষ্ট।
আরও পড়ুন: দেশে এলো যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ
লিমনের মামা জানান, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। পরিবারের সঙ্গেও রুমমেট সংক্রান্ত কোনো বিষয় লিমন কখনও শেয়ার করেনি। কোনো ধরনের ঝামেলা বা সমস্যার কথাও পরিবারকে জানায়নি। স্বাভাবিকভাবেই সবকিছুই চলছিল।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশিরা এতে অংশ নেন। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘বিদায় বন্ধু’ - জামিল লিমনকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন শিক্ষক
গত ১৬ এপ্রিল সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। এর আটদিন পর ২৪ এপ্রিল জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েকদিনের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৩০ এপ্রিল শনাক্ত হয় বৃষ্টির মরদেহ। এ ঘটনায় এখনও শোকাবহ স্থানীয় প্রবাসীরা।
লিমনের বান্ধবী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন। দুই শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘেরহেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী বুধবার (৬ মে) বাদ জোহর যুক্তরাষ্ট্রে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আরও পড়ুন: হিশামের বিরুদ্ধে ১৫ দিন আগেই অভিযোগ দেন লিমন, ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বলেছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরইমধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট যৌথভাবে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।