২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৫

একাদশ শ্রেণি ভর্তিতে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ যশোরে

যশোর শিক্ষা বোর্ড  © ফাইল ছবি

যশোরের কয়েকটি কলেজের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা ক্ষোপ প্রকাশ করেছেন। কলেজগুলো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রীদের সুচারুভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। সেখানে ভর্তি ফিসহ ভর্তি সংক্রান্ত প্রশ্নের সমাধান দেয়া আছে। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে জেলা শহরে কলেজে বাংলা ভার্সনের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ফি দুই হাজার ও উপজেলা পর্যায়ে বাংলা ভার্সনের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নীতিমালার বেশি ভর্তি ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। অথচ ভর্তি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বেশ কিছু কলেজ অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করছে। 

অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়কারী কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে- যশোর সরকারি এম এম কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, শিক্ষাবোর্ড স্কুল অন্ড কলেজ, যশোর সরকারি কলেজ, হামিদপুর আলহেরা ডিগ্রি কলেজ, উপশহর ডিগ্রি কলেজ ও কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ। এম এম কলেজে বিজ্ঞানে ৩ হাজার ৯৪, মানবিকে ২ হাজার ৯৯৪ ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ৯৯৪ টাকা ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে। সিটি কলেজে বিজ্ঞানে ২ হাজার ৯১০, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ৮১০ টাকা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষাবোর্ড কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার ১২৯ টাকা নেয়া হচ্ছে। সরকারি মহিলা কলেজে বিজ্ঞানে ২ হাজার ৪২৭, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ৩২৭ টাকা নেয়া হচ্ছে। যশোর সরকারি কলেজে বিজ্ঞানে ৪ হাজার ৫০, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার ৮০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। 

এছাড়াও উপশহর ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞানে ৩ হাজার ২৫০, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৩ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে সব বিভাগে তিন হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। হামিদপুর আলহেরা ডিগ্রি কলেজে সব বিভাগে দুই হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এসব কলেজগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাড়তি ফি আদায় করছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিশ্চয়নকৃত শিক্ষার্থীদের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। আর ২৪ সেপ্টম্বর প্রথম ক্লাস হবে।

আরও পড়ুন: একাদশে শ্রেণিতে প্রথম ধাপে ভর্তি শেষ হচ্ছে আজ, ক্লাস শুরু কবে

রুহুল আমিন নামে এক অভিভাবক জানান, তিনি ২০ সেপ্টেম্বর যশোর সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে তার মেয়েকে ভর্তি করেছেন। তার কাছ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৫০ টাকা ভর্তি ফি নিয়েছেন। অথচ ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে জেলা শহরের কোন কলেজ ভর্তি ফি ২ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন আইনে বাড়তি টাকা নিলো আমার বোধগম্য হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তিনি শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নাম প্রকাশে এক অধ্যক্ষ জানান, তার মেয়েকে তিনি যশোর এম এম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করেছেন। তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৯৪ টাকা নেয়া হয়েছে। সরকারি কলেজ কোন আইনে এত টাকা নিল বিষয়টি খতিয়ে দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুল হাসান বলেন, যশোর সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি ফিতে খুব বেশি বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ কিছু ফি’র কারণে ভর্তি ফি’র সাথে অল্প কিছু টাকা যোগ করা হয়েছে।

এম এম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর আতিয়ার রহমান বলেন, নীতিমালার একটি টাকাও বেশি নেয়া হচ্ছে। কলেজের কিছু অভ্যন্তরীণ ফি নেয়া হচ্ছে সেইজন্য মূলত কিছু টাকা বাড়তি নেয়া হচ্ছে। এখন আগের মত ম্যানুয়ালি পদ্ধতিতে কোন টাকা নেয়া হয় না। ভর্তি ফি বেতনসহ সকল ধরনের টাকা-পয়সা অনলাইনের মাধ্যমে নেয়া হয়।

এম এম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হারুন অর রশিদ বলেন, একাদশ শ্রেণিতে বোর্ড নির্ধারিত ভর্তি ফি’র সাথে কলেজের অভ্যন্তরীণ ব্যয় পরিচালনার জন্য কিছু টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। ওইসব টাকা নিয়ম-কানুন মেনেই খরচ করা হয়। কোন অনিয়মের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর কুবায়েত হোসেন বলেন, ভর্তি ফি নেয়ার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কোন লুকোচুরির সুযোগ নেই। এটা শিক্ষাবোর্ডসহ ভর্তি আবেদনের ওয়েবসাইডেও দেয়া আছে। তারপরও কোন কলেজ বাড়তি টাকা নিয়েছে এমন অভিযোগ পেলে শিক্ষা আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।