১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:০২

খদরে আস্ত খাসিকাণ্ডে সামনে এলো জাপানপ্রবাসী বরের ফর্দনামা

বর জুনায়েদ মিয়া ও লিখিত ফর্দনামা  © টিডিসি সম্পাদিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে না করে চলে যাওয়া জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়ার ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে কাবিন নির্ধারণের একটি লিখিত ফর্দনামা।গত ১৭ আগস্ট উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এরপর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি, যোগাযোগে বাধা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ তোলেন জুনায়েদ। তবে তার এসব অভিযোগের বিষয়ে কনেপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে সামনে এসেছে গত ১৪ আগস্ট করা একটি লিখিত ফর্দনামা। ওই নথিতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। নথিতে বরের অভিভাবক হিসেবে তার চাচাতো ভাই মনির হোসেনের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে জানা গেছে।

১৪ আগস্টের লিখিত ফর্দনামায় যেখানে ২ লাখ টাকা কাবিনের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেখানে পরবর্তীতে ফেসবুক পোস্টে পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জুনায়েদের ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তিনি ও তার পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিয়ের দিন কনের বাড়িতে গিয়ে খদরের খাবারে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান এবং খাসি ছাড়া বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করবেন না বলে অনড় থাকেন এমন দাবি করেছেন কনেপক্ষ ও স্থানীয়রা। পরে তিনি বিয়ে না করেই চলে যান। কনের বাবা শফিক মিয়ার দাবি, খাসির বিষয়টি আগে জানানো হলে তারা এর ব্যবস্থা করতেন।

আরও দেখুন: ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত যুবক

এ বিষয়ে বর জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা কাবিন ঠিক করা ছিল। কাবিন নির্ধারণের পরই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।’

তবে ১৪ আগস্টের লিখিত ফর্দনামা এবং পরবর্তীতে জুনায়েদের ফেসবুক পোস্টে ওঠা অভিযোগের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।