১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:১৬

খাল পুনঃখননে অব্যয়িত ৬৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

কাটাখালী খাল  © টিডিসি ফটো

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নে কাটাখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি কৃষকদের সেচসুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, বৃক্ষরোপণ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। সাহাব্দীরচর থেকে কামারেরচর বাজার হয়ে পয়েস্তিরচর পর্যন্ত কাটাখালী খাল পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

গত ১৩ মে পয়েস্তিরচর এলাকায় প্রকল্পটির খননকাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০ জুন খননকাজ শেষ হয়। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা গত ১৩ আগস্ট সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় মানুষের চলাচল ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অবকাঠামোর ফলে খালের দুই পাশের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের সুযোগ বাড়বে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা সূত্রে জানা যায়, খননকাজে প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। এতে একদিকে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভরাট খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

শেরপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পের কাজ গত ১৩ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫৯৫ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় মাটি সরে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে সেগুলোও মেরামত করে দেওয়া হবে।’

আরও দেখুন: এসএসসিতে ১,১৯৪ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫  অর্জন সাদিয়া আফরিন কনকের

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি আসমা বিনতে রফিক বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি ওই এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই স্থানীয় মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ফসলের জমিতে সেচের পানির সংকট অনেকটাই কমবে। এতে শেরপুরে সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খালের দুই পাশে গাছ লাগানোর ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশও সুন্দর হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রকল্পের অব্যয়িত ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত।’