১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪

পুলিশের উপস্থিতিতে ৩ পাচারকারীকে গণপিটুনি ও চোলাই মদে আগুন

জব্দকৃত দেশীয় চোলাই মদ  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় পুলিশের উপস্থিতিতে মব সৃষ্টি করে প্রায় ৫ থেকে ৬ বস্তা দেশীয় চোলাই মদে আগুন দিয়েছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদিঘী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে কিছু চোলাই মদ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

এ ঘটনায় দেশীয় চোলাই মদ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে গণপিটুনি দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। পরে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। একই সময় চোলাই মদ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে ওইদিন দিবাগত রাত ১২টা ৯ মিনিটে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ৩ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে শুনেছেন জানিয়ে উত্তেজিত জনতা মব সৃষ্টি করে মদে আগুন দেওয়ার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

জানা যায়, বান্দরবান থেকে কেরানীহাটমুখী দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বাজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বড়দুয়ারা এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি অটোরিকশার ভেতর থেকে ‘ডাকাত, অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে’ বলে চিৎকার করা হয়। এরপর স্থানীয় সাইফুল ও গ্রাম পুলিশ মহিউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন যুবক দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের পিছু নেয়। একপর্যায়ে অটোরিকশা দুটি দস্তিদারহাট থেকে ছদাহা রোডে প্রবেশ করে মিঠাদিঘী এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়রা একটি অটোরিকশা আটক করেন। পরে ওই অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ বস্তা দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা ৩ জন মদ পাচারকারীকে গণপিটুনি দেয়।

আরও জানা যায়, খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ওই সময় উত্তেজিত জনতার একাংশ ৩ মদ পাচারকারীকে অন্যত্র সরিয়ে নেন। এসআই আরিফুল ইসলাম একজন কনস্টেবলকে মদের পাহারায় দাঁড় করিয়ে পাচারকারীদের উদ্ধারের জন্য পার্শ্ববর্তী আরেকটি জায়গায় যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মব সৃষ্টি করে ওই কনস্টেবলকে সরিয়ে মদের বস্তায় আগুন ধরিয়ে দেন। 

বিষয়টি খবর পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে কিছু চোলাই মদ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। একই সময় এসআই আরিফুল ইসলামও পার্শ্ববর্তী একটি জায়গা থেকে ৩ মদ পাচারকারীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।

বাজালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘চিৎকার শুনে আমরা অটোরিকশা দুটির পিছু নিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, পেছনের অটোরিকশাটিতে থাকা লোকজন ওই দেশীয় চোলাই মদ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য অপর অটোরিকশাটিকে ধাওয়া করছিল। তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রভাবিত করতে এভাবে চিৎকার করেছিল। তবে সামনের অটোরিকশাটি জনতা আটক করলে পেছনের অটোরিকশায় থাকা লোকজন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।’

আরও দেখুন: উপাচার্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলেন ববি শিক্ষার্থীরা

সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা প্রথমে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমি একজন কনস্টেবলকে মদের পাহারায় রেখে অপর একজন কনস্টেবলকে নিয়ে আসামিদের উদ্ধারের জন্য গিয়েছিলাম। এ সময় উত্তেজিত জনতা মব সৃষ্টি করে মদের বস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আমরা ৩ মদ পাচারকারীকে আটক এবং কিছু মদও উদ্ধার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে এজাহার তৈরি করতেছি।’

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘৩ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে বলে শুনেছি। তবে মদের পরিমাণ আমরা জানি না।’

বিক্ষুব্ধ জনতা মব সৃষ্টি করে দেশীয় চোলাই মদ জ্বালিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এসআই আরিফ উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবেন।’