২১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫

ছাত্রাবাসে যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক

কুষ্টিয়া মডেল থানা ও অভিযুক্ত রাফিউজ্জামান রবিন  © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত

প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রাবাসে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রাফিউজ্জামান রবিন (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে সুযোগ পেয়ে ওই নারী ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চান। পরে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লক্ষীখোলা গ্রামের বাসিন্দা রাফিউজ্জামান রবিন কৌশলে ওই নারীকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় থাকা একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জিম্মি করে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত চার দিন ধরে রবিন ও তার সহযোগীরা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, নির্যাতনের পাশাপাশি তার পরিচয় গোপন এবং ঘটনার আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা তার ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগীর হিস্ট্রি অব সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট থাকায় তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রঞ্জিত কুমার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধান অভিযুক্ত রাফিউজ্জামান রবিনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন : ফ্যানের পাখায় ধুলার সাথে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার কি সম্পর্ক? জেনে নিন বাস্তবতা

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতব্বর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে আবাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি ছাত্রাবাসে এমন ঘটনার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।