‘হঠাৎ দেখি ব্রেক ফেল, মুহূর্তেই নদীতে বাস’
বাসের ভেতরে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না, হেলপার এবং যাত্রীরা আগেই গাড়ি থেকে নেমে যায়। তারা নেমে যাওয়ার ২০ সেকেন্ড পরই দেখি ব্রেক ফেল। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারছিলাম না। চোখের ফলকে বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে গেলো। কোনোমতে জানালা ভেঙে বের হয়েছি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাসটির চালক।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাসটির চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট হতে সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ি। এর আগে বাসের ইঞ্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই। এ সময় হেলপার আমাকে সতর্ক করে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে নেমে যায়।
এ ছাড়া বাসের ভেতর আমি ছাড়া আর কোন লোক ছিল না। বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলেও সৃষ্টিকর্তার দয়ায় আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে উপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হই। তবে কীভাবে বের হলাম জানি না। না হয় মরেই যেতাম। পরে স্থানীয়রা আমাকে টেনে তীরে তুলে। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আমাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
আরো পড়ুন: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার
এদিকে বাসটি ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বাসটি পানির নিচ থেকে ওপরে তোলা হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টা থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়ে দুপুর ১২টায় শেষ হয়। বাসটি ওপরে তোলা হয়েছে, তবে ভেতরে কোনও লাশ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি তখন খালি ছিল এবং যাত্রীরা আগেই ঘাটে নেমে গিয়েছিলেন। এ কারণে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসের যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাটে প্রবেশের আগেই নিয়ম অনুযায়ী বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে দুর্ঘটনার সময় বাসের চালক নদীতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘাট সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্যোগে তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।