২৭ মে ২০২৬, ১২:৫২

রাজধানীর দুই বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪

সড়ক দূর্ঘটনা   © সংগৃহীত

রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘ইসলাম পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনের ‘আকাশ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে প্রগতি সরণির নর্দ্দা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখী সাধারণ যাত্রীরা।

নিহতরা হলেন- লাইজু বেগম (৩৮), স্বামী নাম মো. কবির জোমাদ্দার (থানা-মোংলা, জেলা-বাগেরহাট); কবির জমাদ্দার (৪৭), বাবার নাম আ. রশিদ জমাদ্দার (থানা-মোংলা, জেলা-বাগেরহাট); খুশি বেগম (৩৫), বাবার নাম সুলতান ফরাজি (থানা-মোংলা, জেলা-বাগেরহাট) ও মো. রবিউল (২২), বাবার নাম মজিবর (থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে বাস দুর্ঘটনায় একজন নিহত

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন বাজারের নর্দ্দা এলাকায় সড়কের পাশে একটি বাস কাউন্টার থাকায় সেখানে ভোরে স্বভাবতই মানুষের ভিড় থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি বাস ওই পথে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে আসছিল। নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রোড ডিভাইডারের ওপর উঠিয়ে দেয়। গতি বেশি থাকায় বাসটি ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা ‘আকাশ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে সজোরে ধাক্কা দেয়।’

এসআই নেসার উদ্দিন আরও জানান, গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের বাসটিতে যাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল, পক্ষান্তরে ঘাতক ইসলাম পরিবহনে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী ছিলেন। ইসলাম পরিবহনের বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় আকাশ পরিবহনের বাসটি ছিটকে অনেকটা দূরে সরে যায় এবং দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নারী যাত্রী মারা যান। পরবর্তীতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত চারজন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘাতক ইসলাম পরিবহনের অক্ষত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসটি পটুয়াখালী থেকে ছাড়ার পর থেকেই চালক অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। চালক ও হেল্পার যাত্রীদের কোনো সতর্কবার্তাই শোনেননি, উল্টো পুরো রাস্তা জুড়েই চালক যাত্রীদের সঙ্গে অবাধ্য আচরণ ও চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন।

দুর্ঘটনার পর প্রগতি সরণির ব্যস্ততম ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে দ্রুত বাড্ডা থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজে যোগ দেয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘাতক ইসলাম পরিবহনের চালক ও হেল্পার গাড়ি ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায়। পুলিশ বাস দুটিকে জব্দ করেছে এবং পলাতক চালক-হেল্পারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।