ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে এক রাতে রাজধানীতে প্রাণ হারালেন ৪ জন
নতুন পোশাকের ভাঁজে খুশির আমেজ নিয়ে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ উদযাপনের কথা ছিল। আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই আনন্দের রাত পরিণত হলো বিষাদ সিন্ধুতে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে রাজধানীর পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়েসহ ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেছে দুটি পরিবারের ঈদ আনন্দ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক সাজু আহমেদ সুমন (৪৬) তার ২০ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আহমেদ তৃষাকে নিয়ে বের হয়েছিলেন ঈদের কেনাকাটা করতে। বাবার মোটরসাইকেলের পেছনে বসে তৃষা হয়তো ভাবছিলেন নতুন পোশাকে ঈদটা কতই না সুন্দর হবে। কিন্তু রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে একটি বেপরোয়া বালুর ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৭৫২০) পেছন থেকে তাদের পিষ্ট করে দেয়।
আরও পড়ুন: ফুটপাতের দোকানের চাপে অনিরাপদ সড়কে প্রাণটাই হারালেন বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকের ধাক্কায় রাস্তায় পড়ার সাথে সাথে সুমনের হেলমেট ভেঙে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তৃষাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। ঈদের রঙিন জামাগুলো এখন পড়ে আছে নিথর লাশের পাশে, যা আর কখনোই তৃষার গায়ে উঠবে না।
একই রাতে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়ে ঘটে আরেক শোকাবহ ঘটনা। হারুনর রশিদ সানি তার স্ত্রী ও বোনকে নিয়ে কেনাকাটা শেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। আনন্দমুখর পথচলা থমকে যায় যখন অটোরিকশাটি ইউটার্ন নেওয়ার সময় আইল্যান্ডের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। স্থানীয়রা সবাইকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হারুনর রশিদ সানি ও অটোরিকশাচালক আলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় সানির স্ত্রী ও বোন এখনো মৃত্যুযন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছেন।