০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫

বই পড়ার অভ্যাসে কমতে পারে একাকিত্ব, ভালো থাকতে পারে মস্তিষ্ক: গবেষণা

অবসরে অনেকের বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে  © এআই সৃষ্ট ছবি

সারাদিনের ব্যস্ততার পর একটু নিরিবিলি সময় পেলেই কেউ বই হাতে নেন, কেউ আবার মোবাইলের পর্দায় ডুবে যান। অথচ প্রিয় কোনো বইয়ের কয়েকটি পাতা পড়তে পড়তেই অনেকের মন যেন কিছুক্ষণের জন্য দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে যায়। 

এই অভিজ্ঞতার পেছনে শুধু অনুভূতিই নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণারও কিছু ভিত্তি রয়েছে। নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা, মানসিক সুস্থতা এবং একাকিত্ব কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বিভিন্ন গবেষণায়।

​সম্প্রতি ২০২৬ সালে সাইকোলজিক্যাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। শৈশব থেকে প্রবীণ বয়স পর্যন্ত নিয়মিত পড়ার অভ্যাস মানুষের মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা একাধিক গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেছেন তারা।

​সচল থাকে মস্তিষ্ক
বই পড়ার সময় মন দিয়ে তথ্য অনুধাবন করতে হয় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। ফলে এটি মস্তিষ্কের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম বা জিম করার মতো কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, আনন্দের জন্য হলেও নিয়মিত বই পড়লে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে। শৈশব বা কৈশোরে গড়ে ওঠা এই অভ্যাস বয়সের সাথে সাথে জ্ঞানীয় সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৮০১ জন প্রবীণকে নিয়ে পরিচালিত ২০০২ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা বই পড়ার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে বেশি যুক্ত থাকেন, তাদের মধ্যে বয়সে আলঝেইমারসের ঝুঁকি কম থাকে। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য। তাই শুধু বই পড়লেই আলঝেইমার প্রতিরোধ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

​কমে একাকিত্ব, বাড়ে সামাজিকতা
যুক্তরাজ্যের প্রায় দুই হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের ৫৯ শতাংশই মনে করেন বই পড়া তাদের চারপাশের মানুষের সঙ্গে আরও সংযুক্ত বোধ করতে সাহায্য করে। আর ৫৬ শতাংশ জানান, বই পড়ার সময় তারা একাকিত্ব কম অনুভব করেন। ​

আরও পড়ুন: ৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন শুরু আজ

একলা পড়ার পাশাপাশি ‘বুক ক্লাব’ বা পাঠচক্রে অংশ নিলে অন্যের সাথে যোগাযোগের চমৎকার পরিবেশ তৈরি হয়, যা মন ভালো রাখার পাশাপাশি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে।

​গল্পের বই কি সহমর্মিতা বাড়ায়?
কথাসাহিত্য বা উপন্যাস পড়ার সময় পাঠক কোনো না কোনো চরিত্রের সংকট ও আবেগ নিজের মধ্যে অনুভব করতে চেষ্টা করেন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা ও সহমর্মিতা প্রকাশে কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে সব গবেষণায় একই ফলাফল না পাওয়ায় এটিকে বৈজ্ঞানিক সতসিদ্ধ সত্য বলা চলে না।

৬ মিনিটে ৬৮ শতাংশ স্ট্রেস কমায়
সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় ‘মাত্র ছয় মিনিট বই পড়লে স্ট্রেস ৬৮ শতাংশ কমে যায়’। তবে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় এই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটির পেছনে শক্ত পিয়ার-রিভিউড কোনো প্রমাণের দেখা মেলেনি। তবে সংখ্যাটি প্রতিষ্ঠিত না হলেও, সার্বিকভাবে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাসে যে মানসিক চাপ কমে এবং মেজাজ ফুরফুরে থাকে, তার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিদ্যমান। 

বলতে গেলে নিয়মিত বই পড়া কোনো নির্দিষ্ট রোগের ওষুধ না হলেও মস্তিষ্ক সচল রাখতে, মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে এবং একাকিত্ব কাটিয়ে ওঠার এক দারুণ প্রাকৃতিক উপায়।