১০ মে ২০২৬, ১১:৪৫

গাকৃবি প্রো-ভিসিকে আ.লীগের দোসর আখ্যা, নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নতুন নিয়োগ চায় শিক্ষক সমিতি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) বর্তমান প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হককে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে বহিরাগত কাউকে না এনে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কোনো যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষককে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ রবিবার (১০ এপ্রিল) গাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কৃষি ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)। শিক্ষা, গবেষণা ও বহিরাঙ্গন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দেশের কৃষিক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছে গাকৃবি। কিন্তু ০৫ই আগস্ট, ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার কোনো ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়াই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হককে নিয়োগ প্রদান করে। 

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্মরণকালের সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বর্তমান প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. ময়নুল হককে তাঁর পদ হতে অপসারণ করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো যোগ্য শিক্ষককে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নিয়োগ প্রদান করবেন এমনটি সকলের দৃঢ় বিশ্বাস। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক সিনিয়র যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রফেসর রয়েছেন যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবদানকে গুরুত্ব দেয়া হলে তা শিক্ষক সমাজের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে। 

আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহেই নতুন ভিসি পেতে যাচ্ছে ইবি-বেরোবি

বলা হয়, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, মেধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে। অন্যকোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিরাগত কোন শিক্ষককে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার আশংকা আছে যা কোনোক্রমেই কাম্য নয় এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই অনন্য প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ৯৭টি উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত ও ১৬টি যুগোপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।

বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আওয়ামী শিক্ষক নেতা প্রফেসর ময়নুল হকের নিয়োগ বাতিল করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী কোনো যোগ্য প্রফেসরকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করার জন্য গাকৃবি শিক্ষক সমিতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছে। বর্তমান সরকারের কৃষি ও শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়নে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।