২১ মে ২০২৬, ১৩:৩৫

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে একগুচ্ছ পরিবর্তনের প্রস্তাব, কমতে পারে আসনও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা  © ফাইল ছবি

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে একগুচ্ছ পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা। তাদের মধ্যে অনেকে পরীক্ষার লিখিত অংশ বাদ দিয়ে এমসিকিউ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এ ছাড়াও ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক কিছু প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে আসন সংখ্যা কমানোর চিন্তার কথাও জানিয়েছেন তারা।

যদিও ডিনদের এ প্রস্তাব এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনও কিছুই চূড়ান্ত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ডিনস কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব করা হয়। বিষয়গুলো নিয়ে আরও অধিকতর আলোচনা ও পর্যালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরামে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। ঈদের পরে বিষয়টি নিয়ে নীতি নির্ধারকরা বসবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সভায় উপস্থিত কয়েকজন ডিনসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে বিষয়ে ডিনদের মধ্যে প্রাথমিক কিছু আলোচনা হয়েছে। অনেকে লিখিত অংশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। কেউ কেউ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এমসিকিউ ও লিখিত নেওয়ার কথা বলেছেন। পরীক্ষা কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে বিষয়েও আরও চিন্তাভাবনা করার প্রস্তাব এসেছে।

একটি অনুষদের ডিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে ইংলিশ মিডিয়াম, এ-লেভেল এবং ও-লেভেল শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েন। এর ফলে তাদের অনেকে বিদেশে চলে যান। তারাও যাতে তাদের ইংরেজি মাধ্যমের সঙ্গে পরীক্ষায় খাপ খাওয়াতে পারে, সে জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কারণ তারা ইংলিশ মিডিয়ামের হওয়ায় বাংলার বিষয়গুলোয় স্বাভাবিকভাবেই ভালো করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি বিষয়ে প্রতি বছরই আসন শূন্য থাকছে। এমন বিজ্ঞানে চাহিদার শীর্ষে থাকা কয়েকটি বিষয়ের জন্যও প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয়ও আলোচনায় আছে। কম চাহিদার কয়েকটি বিষয়ে আসন কমানোর চিন্তাও করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আরও কিছু প্রস্তাব আছে। সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সভা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিনস কমিটির বৈঠকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নকে বাধ্যতামূলক রেখে অতিরিক্ত চারটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এমসিকিউভিত্তিক পরীক্ষা গ্রহণের পক্ষেও মত তারা। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিনও এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিসহ একাধিক অনুষদের ডিন এতে একমত জানিয়েছেন। জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: এসএসসিতে ভুলে ভরা প্রশ্ন, অটো নম্বর পাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা?

অন্যান্য অনুষদের ডিন এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকও পরীক্ষার পদ্ধতি এবং পাসের হার নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। এতে কয়েকটি বিভাগের আসনসংক্রান্ত বিষয়ও গুরুত্ব পায়। ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার পরও প্রতিবছর বহু আসন খালি থেকে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ পরিস্থিতিতে মেধাতালিকার অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের ডেকে শূন্য আসন পূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত শিক্ষাবর্ষের মতো এবারও আসন কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কিছু প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এখন বিভাগগুলোর মতামত নেওয়া হবে। এরপর ডিনস কমিটির আলোচনার পর তা যাবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে। সেখানে সিদ্ধান্ত হলে তারপর ভর্তি কমিটিতে চূড়ান্ত হবে। ফলে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা এখনই বলা যাবে না। এখনও অনেক লম্বা সময়ের ব্যাপার।’

একই ধরনের কথা বলেন কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মূলত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিগত কিছু পরিবর্তন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ঈদের পরে হয়তো বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’