চামড়া থেকে হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব, কিন্তু সব চলে যাচ্ছে দালালদের কাছে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ঈদুল আজহা ও আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন ববি শিক্ষার্থীরা।
মো.ফয়সাল
‘ঈদুল আজহা ত্যাগ ও আনন্দের এক অনন্য দিন। এটি কোরবানি দেওয়ার নামান্তর মাত্র নয় বরং এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির উৎসব। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করার শিক্ষা। কোরবানি ধনী দরিদ্রের ব্যবধান কমায়। এদিন গরিবরাও যাতে তৃপ্তি সহকারে গোশ্ত খাওয়ার সুযোগ পায়। সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব, আর তার মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে যাক।’
মো. সাইফুল ইসলাম
‘ঈদে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে ঝাঁক আমাদের এই প্রত্যাশা। এই আনন্দের মাধ্যমে পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হক। ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ। কিন্তু আমরা অনেকেই কোরবানিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করি। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের উচিত কোরবানির গোশ্তের তিন ভাগের এক ভাগ গরিব-অসহায়দের মাঝে সুষমভাবে বণ্টন করা। সমাজের যে মানুষটি সারাবছর গোশ্ত কিনতে পারেন না, তার মুখে হাসি ফোটানোই প্রকৃত কোরবানির চেতনা।’
মো. ভিকারুল ইসলাম
‘শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়, পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পশুর বর্জ্য সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কোরবানির পর নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং দ্রুত তা পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে করে শহরগুলোতে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত নিষ্কাশন করতে হবে। এবং গ্রামে কোরবানির বর্জ্য মাটির নিচে চাপা দেওয়ার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এবং বর্জ্যের উপরে ব্লিচিং পাউডার বা চুন-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’ কোরবানির পশুর চামড়া সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে সমাজের সবাইকে ঈদের আনন্দে শামিল করার আহ্বান জানান তিনি।
ফয়সাল আহমেদ
‘ঈদুল আজহা হচ্ছে ত্যাগ ও আনন্দের দিন। ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর পাশাপাশি আরও একটি অনৈতিক শক্তি রয়েছে। আমরা অনেকেই কোরবানির চামড়াকে একটি বর্জ্য হিসেবে দেখি, অথচ এটি বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উৎস। বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ২ লাখের বেশি কোরবানির পশু কাটা হয়। এসব চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ হলে রপ্তানি আয় হয় হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অনেক সময় অব্যবস্থপনায় চামড়া নষ্ট হয়ে যায়, পচে যায়, অথবা অল্প দামে দালালদের কাছে চলে যায়। গভর্নমেন্টের সঠিক পদক্ষেপ ও তদারকিতে এসব পশুর চামড়া জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।’
আফরিন জাহান নিশাত
‘আমার মনে কিছু প্রশ্ন জাগে, আমরা কি শুধু উৎসব পালন করছি, নাকি ত্যাগের গভীর বার্তাটাও ধারণ করছি?
যা সবচেয়ে প্রিয়, তা ত্যাগ করতে পারাই প্রকৃত কোরবানি। আমাদের জীবনে সেই ত্যাগ কোথায়? আমরা কি আমাদের অহংকার, লোভ, বা স্বার্থপরতাকে কোরবানি দিতে পারছি? একটি পশু কোরবানি দেওয়া সহজ, কিন্তু নিজের ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি দেওয়াই হচ্ছে আসল পরীক্ষা। তাই কোরবানির সঠিক বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’