১৯ মে ২০২৬, ১২:১১

ভাগ্য বদলাতে দুই দশক আগে গাজীপুরে এসেছিলেন, লালমনিরহাটের ঈমান আসলেই কি কবিরাজ?

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমান আলী  © টিডিসি সম্পাদিত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন নতুন ডায়ালগ ট্রেন্ডিংয়ে। নেটিজেনরা মেতেছেন ‘কী রাগ করলা’ ভাইরালে। ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশন, কমেন্ট বক্স কিংবা ইনবক্সের চ্যাটিং—সব জায়গাই যেন দখল করে নিয়েছে এই একটি মাত্র ডায়ালগ।

অনেকেই হাস্যরস, ব্যঙ্গ কিংবা খোঁচা দেয়ার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করছেন এ সংলাপ। নেটিজেনদের অনেকের প্রশ্ন, ভাইরাল হওয়া ব্যক্তি কি আসলেই কবিরাজ নাকি অন্য কেউ। তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি আসলে কোনো কবিরাজ নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা।

জানা যায়, এই ব্যক্তির নাম ঈমান আলী। যিনি কবিরাজের ছদ্মবেশে ক্যামেরার সামনে এসেছেন। প্রায় ২০-২৫ বছর আগে ভাগ্য অন্বেষণে সপরিবারে লালমনিরহাট জেলা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাজীপুরে। সেই থেকে গাজীপুরেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল ঈমান আলীর। একটা সময় সেই শখটাই রূপ নেয় পেশায়। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনয়কেই তিনি জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামাজিক সচেতনতামূলক এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিওতে নিয়মিত অভিনয় করেন তিনি।

সম্প্রতি একটি ফেসবুক ও ইউটিউব কন্টেন্টের জন্য কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করেন ঈমান আলী। সেখানে তার বাচনভঙ্গি, চোখের ইশারা আর বিশেষ ভঙ্গিমায় বলা, রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক, ডায়লগটি রাতারাতি লুফে নেয় নেট দুনিয়া। মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ এবং শেয়ারের মাধ্যমে এটি ভাইরাল কন্টেন্টে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন ঈমান আলীর এই ডায়ালগ ব্যবহার করে তৈরি করছেন নানা ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যায়, শুরুটা হয়েছে মূলত এক গণকের ফেসবুক আইডি থেকে সনাতন পদ্ধতিতে হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলে দেয়া থেকে। রবিবার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ত এক রাস্তায় সুঠাম দেহের এক ব্যক্তির হাত দেখে তার ভাগ্য বদলানোর উপায় বাতলে দিচ্ছেন কাধেঁ ঝোলা নেওয়া এক গণক। যেখানে কথার মাঝেমাঝেই ওই গণককে বলতে শোনা যায় ‘রাগ করলা?’

মুলত গণকের কথা বলার ভঙির ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মানুষকে কথা বলতে প্রভাবিত করা নিয়ে হাস্যরসে মজছেন নেটিজেনরা। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমসাময়িক নানান পরিস্থিতি। কেউ নিজের বসের সঙ্গে মেলাচ্ছেন ছবির গণকটিকে, কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মাঝে খুঁজছেন গণকের প্রতিচ্ছবি। তাতে নেটিজেনরা স্যাটায়ার হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেদারসে শেয়ার করছেন এই কন্টেন্টটি।