ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান, হতাহতের সংখ্যা ২০
জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে বিভিন্ন দোকানের কাচের জানালা ভেঙে যায়। আতঙ্কে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন অনেকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল শিজুওকা প্রিফেকচারের পশ্চিমাঞ্চলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র।
জাপানের কিয়োদো সংবাদ সংস্থা কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, আইচি ও শিজুওকা প্রিফেকচারে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে আইচি প্রিফেকচারের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। এর মধ্যে হামামাতসু শহর, প্রাচীন রাজধানী কিয়োটো ও নারা এবং মাউন্ট ফুজি অবস্থিত ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের পাশাপাশি গিফু প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকাও রয়েছে।
কিয়োদো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। উৎপত্তিস্থল থেকে অনেক দূরে হওয়ায় রাজধানী টোকিওতে কম্পন অনুভূত হয়নি।
জাপানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন দোকানের ভাঙা কাচের জানালা এবং রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরোর ছবি দেখানো হয়েছে। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে পড়ে যাওয়া অসংখ্য বই মেঝেতে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় অনেকে ভবন থেকে বের হওয়ার জন্য সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন।
আফটারশকের সতর্কতা
ভূমিকম্পের পর আগামী এক সপ্তাহ শক্তিশালী কম্পনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আয়াতাকা এবিতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভূমিধস, পাথর গড়িয়ে পড়া এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।’
তিনি আরও জানান, জাপানের কয়েকটি অঞ্চলের নিচ দিয়ে বিস্তৃত সমুদ্রতলের নানকাই ট্রাফ এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন শনাক্ত হয়নি। ওই এলাকায় দুটি বড় টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থল রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সেখানে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা বলে আসছেন।
ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনও ধীরগতিতে চলাচল করছে।
টোকিও ও ওসাকাকে সংযুক্তকারী টোকাইডো শিনকানসেন রুটে শিজুওকা ও গিফু-হাশিমা স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়েছে। নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জেআর সেন্ট্রাল জানিয়েছে।