৩৫২ বারের প্রচেষ্টায় মিলল চাকরি, তবুও নাখোশ যুবক
হঠাৎ চাকরি হারিয়ে বেকায়দায় পড়েছিলেন এক যুবক। পরিবারের ও নিজের হাল ধরতে টানা চার মাস হন্য হয়ে খুঁজছিলেন আরেকটি চাকরি। আর তাতেই চাকরি বাজারের পুরো দৃশ্যপট তার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করে। সেখানে টানা ৩৫২ বার প্রচেষ্টার পর চাকরি পেলেও সেই চাকরিতে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না তিনি। আর এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতেই মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই পোস্ট।
অনেক কষ্টের পর চাকরি মিললেও নতুন চাকরি পাওয়ার পরও পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছেন না তিনি। কারণ, দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে কাজ করার পর এখন একটি দোকানে হিসাবরক্ষকের পদে যোগ দিতে হয়েছে তাকে। এতে আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটলেও পেশাগত অবস্থান নিয়ে হতাশা ও অস্বস্তিতে ভুগছেন ওই ব্যক্তি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটে ওই ব্যক্তি লিখেছেন, ‘অবশেষে এমন একটি চাকরি পেয়েছি, যেখানে আমার প্রয়োজন অনুযায়ী বেতন মিলবে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও নিজেকে অপমানিত ও লজ্জিত মনে হচ্ছে।’ নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। তবে কর্মজীবনের এই পরিবর্তন মেনে নিতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছে।
ওই ব্যক্তির দাবি, কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। বিশেষ করে গ্রাহক পরিষেবা ও খুচরা ব্যাবসা খাতে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যবস্থাপক থেকে উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি সম্মান পেয়েছেন এবং তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একাধিক ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও এখন তাঁকে আগের তুলনায় অনেক নিচু পদে কাজ করতে হচ্ছে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘ব্যবস্থাপক থেকে উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সময় আমি সম্মান পেয়েছি, আমার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ, এখন আমাকে বলতে হচ্ছে, ‘হ্যাঁ, আমি একটি দোকানের হিসাবরক্ষক।’ গত বছরেও আমি একটি অত্যন্ত সম্মানিত সংস্থায় সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতাম।’
নতুন কর্মস্থলে অতীতের পরিচিত মানুষের মুখোমুখি হওয়াও তার অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ছোট শহরে বসবাস করায় অনেকেই তাকে চিনতে পেরেছেন। নতুন চাকরি কেমন চলছে কিংবা ভবিষ্যতে পদোন্নতির সুযোগ আছে কি না—পরিচিতদের এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
পোস্টদাতা জানান, টানা চার মাস বেকার থাকার সময় তিনি ও তার বাগদত্তা নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতেও হিমশিম খেয়েছেন। খাবারের ব্যবস্থা করতে তাঁদের ফুড ব্যাংক ও স্থানীয় গির্জার সহায়তা নিতে হয়েছে। এ সময়ে তিনি ৩৫২টি চাকরিতে আবেদন করেন এবং বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারেও অংশ নেন। এমনকি একটি উপহারের দোকানেও চাকরি পাননি তিনি।
শেষ পর্যন্ত নতুন চাকরি পাওয়ায় আর্থিকভাবে আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আগের পদ ও দায়িত্বের তুলনায় অনেক নিচু অবস্থানে কাজ করতে হওয়ায় হতাশা কাটছে না তার। নিজের অনুভূতি জানিয়ে ওই ব্যক্তি লিখেছেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ, কিন্তু একই সঙ্গে হতাশও।’