নির্বাচনে জিতে নতুন চমক আনলেন আবদুল এল সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ‘হাবিবি পিএসি’ নামে একটি রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহ কমিটি গঠন করেছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) নথিতে দেখা গেছে, এল-সায়েদের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘হাবিবি পিএসি’ নামে একটি লিডারশিপ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) নিবন্ধিত হয়েছে। খবর আল জাজিরার
রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি বা পিএসি হলো এমন সংগঠন, যারা নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে। লিডারশিপ পিএসি সাধারণত কোনো রাজনীতিকের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচার তহবিল থেকে আলাদা। এসব কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অন্য প্রার্থী, নিজ দল ও রাজনৈতিক সংগঠনকে অর্থ সহায়তা দিতে পারেন।
‘হাবিবি’ আরবি ভাষার একটি স্নেহসূচক শব্দ। এর অর্থ ‘আমার প্রিয়’ বা ‘আমার ভালোবাসার মানুষ’। নির্বাচনী প্রচারের সময় শব্দটি প্রায়ই ব্যবহার করতেন এল-সায়েদ। ডেট্রয়েটে বিজয় ভাষণেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জেডি, হাবিবি, কী চমৎকার পরিহাস যে জানুয়ারিতে সংবিধান অনুযায়ী তোমাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।’
মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর এল-সায়েদ ছাড়াও নতুন নির্বাচিত কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা লিডারশিপ পিএসি নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যারিজোনার নবনির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য আমিশ শাহর ‘পিএসি স্ট্রিট বয়’, আইওয়ার নবনির্বাচিত সিনেটর জশ টুরেকের ‘হুইলপিএসি’ এবং নর্থ ক্যারোলাইনার নবনির্বাচিত সিনেটর রয় কুপারের ‘ওয়ান এনসি পিএসি’।
ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনপ্রণেতারা সহকর্মীদের সঙ্গে প্রভাব ও যোগাযোগ বাড়াতে এবং দলীয় নেতৃত্ব কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার সম্ভাবনা জোরদার করতে লিডারশিপ পিএসি ব্যবহার করেন। এসব কমিটির মাধ্যমে তারা অন্য জনপ্রতিনিধি, নিজ দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কমিটিকে অর্থ সহায়তা দেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী চক্রে লিডারশিপ পিএসিগুলো ফেডারেল পর্যায়ের প্রার্থীদের মোট ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিল। এর বেশির ভাগই পেয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। তবে এককভাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছিল একটি ডেমোক্র্যাটিক লিডারশিপ পিএসি।
মিশিগানে নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হন মিসরীয় অভিবাসীদের সন্তান আবদুল এল-সায়েদ। তার প্রচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সিনেটর টেড ক্রুজ তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেন এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।
নির্বাচনের কয়েক দিন আগে মিশিগানের ওয়াইয়ানডট শহরে এক সমাবেশে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেছিলেন, বিদেশে গণহত্যা বা বর্ণবাদী শাসনে জড়িত সরকারগুলোকে অর্থ না দিয়ে দেশের মানুষের জীবন রক্ষায় করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত। তিনি আরও বলেছিলেন, শুধু ট্রাম্পকে পরাজিত করাই যথেষ্ট নয়; যে ব্যবস্থা ট্রাম্পের মতো নেতার জন্ম দিয়েছে, সেটিও বদলাতে হবে।
রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো ছিল তার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করেছে, অর্থের সঙ্গে সাধারণ মানুষের লড়াইয়ে ‘সাধারণ মানুষই জিততে পারে’।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে এল-সায়েদের এই জয় আসে। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ওপেনসিক্রেটস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ব্যয় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৮৯০ কোটি ডলার।
সুপার পিএসির মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের বাইরে ব্যয়ের পরিমাণ ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া অর্থদাতাদের পরিচয় প্রকাশ না করা ‘ডার্ক মানি’র পরিমাণ ইতোমধ্যে অন্তত ১৪৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ পুরো নির্বাচনী চক্রে এই পরিমাণ ছিল ১৩৫ কোটি ডলার।
ওপেনসিক্রেটসের হিসাবে, নির্বাচনী প্রচারের বাইরে ব্যয়ের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো উদারপন্থী গোষ্ঠীগুলোর চেয়ে প্রায় ৩৬ কোটি ডলার বেশি ব্যয় করেছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রার্থীদের তুলনায় প্রায় ৮০ কোটি ডলার বেশি ব্যয় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।