০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৮

ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক দিচ্ছে রাশিয়া: গোপন চুক্তি ফাঁস

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন  © সংগৃহীত

ইরানকে ৯০টি অগ্রসর হেলিকপ্টারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা দ্য ডালাস অ্যানালিটিক্স সম্প্রতি দুই দেশের এই লেনদেন সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র হস্তগত ও ফাঁস করেছে।

নথির তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে উন্নত ৯০টি এমএলইউআর গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে।

ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে ইরানকে ‘এলএমইউআর’ ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চার সরবরাহের পরিকল্পনার ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। এমএলইউআর এক ধরনের গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র, যা অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে।

যে রপ্তানি চুক্তিটির আওতায় ইরানকে এই অগ্রসর লাঞ্চার সিস্টেম সরবরাহে সম্মত হয়েছে রাশিয়া, সেটির নাম ‘কে-১০’। সেই চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, এই লাঞ্চার সিস্টেমগুলো রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার সিস্টেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলের তৈরি এবং ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। আলাদা অভ্যন্তরীণ নথিপত্রে স্পষ্টভাবে ‘কে-১০’ বলতে ইরানকে বোঝানো হয়েছে।

লঞ্চারগুলো শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে অবশ্য পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি দ্য ডালাস অ্যানালিটিক্স। তবে ফাঁস হওয়া এসব নথিপত্রে ২০২৩ সালে ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ জেট ট্রেইনার বিমান সরবরাহের একটি উৎপাদন সময়সূচি পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসা বিমান হস্তান্তরের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পশ্চিমা অনেক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান এ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলো মস্কো; কারণ এ যুদ্ধ রাশিয়াকে কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করেছে।

যেমন, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তেলের উচ্চমূল্য থেকে পাওয়া আয় ক্রেমলিনকে একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বাড়তি তহবিল জোগাচ্ছে এবং অপর দিকে রাশিয়ার জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

তাছাড়া এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং পশ্চিমা সামরিক সম্পদকে ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে কিয়েভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবারই ইরানের প্রতি মস্কোর সমর্থনের মাত্রাটিকে গুরুত্বহীন বলে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন যে, তেহরানকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে রাশিয়া ‘খুবই সামান্য—যদি আদৌ কিছু করে থাকে—ভূমিকা’ পালন করছে।

তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনা থেকে মস্কোকে তিনি দূরে সরিয়ে দিতে চান না।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান