মার্কিন সিনেটে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী
শ্বাসরুদ্ধকর এক নির্বাচন! দিনভর ভোটের পর রাতে ফলাফলের অপেক্ষা আর তাতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের চক্ষুছানাবড়া। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ভূমিধ্বস বিজয়ের নতুন রেকর্ড গড়ল ডেমোক্র্যেটরা। আর সে বিজয়ের অংশীদার হয়ে প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে মার্কিন সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন অ্যাবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের আইনসভায় দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গভীর রাতে তার জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কাওয়াস লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।’ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে রিপাবলিকান প্রার্থী হান খন টোর চেয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন কাওয়াস। তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২ নম্বর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ফিলিস্তিনি অভিবাসী দম্পতির ঘরে নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন কাওয়াস। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি অভিবাসী, শ্রমিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। ‘মর্যাদার জন্য তহবিল দিন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়ুন’—এই স্লোগান নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালান তিনি। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বাড়িভাড়া স্থিতিশীল রাখা, গণপরিবহনে বরাদ্দ বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা জোরদার করা।
বিশেষ করে কঠোর ফেডারেল নীতির কারণে ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসী পরিবারগুলোর সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাওয়াস। তার এই জয়ের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো। গত জুনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের পর জয়ী হন তিনি। এরপর মঙ্গলবারের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পান।
২০২৭ সালে অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আলবানিতে আইনসভার নতুন সদস্যদের সঙ্গে শপথ নেবেন কাওয়াস। দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান প্রতিনিধিদের তালিকায় যুক্ত হবেন তিনি।