০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কার মুখে ট্রাম্পের দল, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করছে রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা। ইতোমধ্যে উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ। তবে সিনেটে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা কারা পাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটি এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনের ভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হওয়ার কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এখন পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫টিতে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আসন ৩৬টি। নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল ৪৭টি আসন (দুই স্বতন্ত্র সদস্যসহ), আর রিপাবলিকানদের ছিল ৫৩টি। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। ফলে দলটির নিট আসন বেড়েছে একটি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ক্যারোলাইনার সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার। এটি এবারের নির্বাচনে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের প্রথম আসন পুনরুদ্ধার। জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ।

নিউ হ্যাম্পশায়ারেও রিপাবলিকানদের আসন বাড়ানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে হেরে গেছেন রিপাবলিকান জন সুনুনু। অন্যদিকে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের আসন পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের আরও তিনটি আসনে নিট জয় প্রয়োজন। এ জন্য আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর দিকে নজর রয়েছে দলটির। অন্যদিকে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে এসব আসনে লড়াই করছে রিপাবলিকানরা।

প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা অগ্রগতি দেখিয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন নিজেদের করে নিয়েছে দলটি। পশ্চিম উত্তর ক্যারোলাইনার ওই আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি আগার জয় পেয়েছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওই আসনে প্রায় ১০ শতাংশ ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ফ্লোরিডার দুটি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা।

নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ছিল ২১৮টি আসন। ডেমোক্র্যাটরা এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করে।

এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং অভিবাসননীতি। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে এপি। সংস্থাটির ভোটার জরিপে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক ভোটার দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বেড়েছে।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারে রিপাবলিকানদের পক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছেন ধনকুবের ও বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠী। একসময় নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও নেব্রাস্কার সিনেট আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মিনেসোটা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী এলাকায় আসন জয়ের চেষ্টা করেছে রিপাবলিকানরা।

নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও আগামী দিনের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব পড়তে পারে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার মুখে পড়তে পারে তার দল। অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা।