০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২১:০৩

ইসরায়েলকে দেওয়া ৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‍ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু  © সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের ভয়ে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক আর্থিক বরাদ্দ বাতিলের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেল আবিবে ৪০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরুর পর ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। খবর আল জাজিরার

ট্রাম্প বলেন, ‘এখন ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে বলতে গেলে, নেতানিয়াহু ও আমি একটি চুক্তি করেছি। আমরা ইসরায়েলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার দিই। কয়েক মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই সহায়তা বন্ধ করে দেব। আমরা ইতোমধ্যে একমত হয়েছি যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না। তবে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।’

ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। দেশটি নিজের সক্ষমতায় এগিয়ে গেছে। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ‘কারণ তাদের এই অর্থের প্রয়োজন নেই। যদি প্রয়োজন হতো, তাহলে আমি বলতাম, সহায়তা চালিয়ে যেতে।’

তবে কী ধরনের সহায়তা বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা এবং দেশটির সমর্থকদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থায়নের বিষয়টি চলতি বছর ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি যে সমর্থন ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্য সমালোচনায় তাতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েলকে দেওয়া সহায়তা বন্ধের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নাকচ হয়ে যায়। প্রস্তাবটির পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের প্রায় অর্ধেক সদস্য সমর্থন জানালেও ৩১৪-১০৪ ভোটে তা পরাজিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কট্টর সমালোচক এবং কেনটাকির বিদায়ী রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যয়সংক্রান্ত একটি বিলে সংশোধনী হিসেবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন।

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অংশের সঙ্গে ইসরায়েলের দূরত্বও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ট্রাম্পের বিরোধী হিসেবে পরিচিত সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মারজোরি টেইলর গ্রিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের আশঙ্কা কীভাবে মানুষের মনোভাব ও চিন্তাভাবনা বদলে দেয়, তা অবিশ্বাস্য।’