একদিনেই বাড়ল ৮৫০ কোটি ডলার, এশিয়ার শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির সম্পদ কত
এক দিনেই ৮৫০ কোটি ডলার সম্পদ বেড়েছে ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির। এতে বাইটড্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিংকে পেছনে ফেলে আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর অবস্থান ফিরে পেয়েছেন তিনি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম বাড়ায় তার সম্পদে এই লাফ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ছয় বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, ওই দিন আম্বানির সম্পদ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৮৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় তিনি উঠে এসেছেন ২৩তম স্থানে। অন্যদিকে ঝাং ইমিংয়ের সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
সোমবার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ রুপিতে পৌঁছায়। এতে এক দিনেই কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।
কোম্পানিটির জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাওয়ায় শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ সময়ে রিলায়েন্সের আয় হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ কোটি রুপি বা প্রায় ২৭০ কোটি ডলার। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২১ হাজার ৩৬৭ কোটি রুপি বা প্রায় ২৩৩ কোটি ডলার।
তেল পরিশোধন ও রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন ব্যবসার ভালো ফল এবং টেলিযোগাযোগ খাতে মুনাফা বৃদ্ধিও কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর আম্বানির নিয়ন্ত্রণাধীন জিও প্ল্যাটফর্মস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ৩২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করছে। আইপিওতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। তালিকাভুক্তির প্রথম দিনেই জিওর শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছিল।
মুকেশ আম্বানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বাবা ধীরুভাই আম্বানি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাজারমূল্যের হিসাবে এটি ভারতের বৃহত্তম কোম্পানি। তেল ও গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
ফোর্বসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ২০০০’ তালিকায় বিশ্বের বৃহত্তম তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অবস্থান ছিল ৫৫তম। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিক্রি ১১ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার, মোট সম্পদ ২২ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার এবং মুনাফা ৯১০ কোটি ডলার।