০১ নভেম্বর ২০২৬, ২১:০৬

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ফেল, হলেন ১৩০ কোটি মুল্যের কোম্পানির মালিক 

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ফেল করার পর নিজেই কোম্পানি খুলেন সানদীপ জানগালা  © সংগৃহীত

ভারতের সানদীপ জানগালা স্বপ্ন দেখেছিলেন ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) কর্মকর্তা হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণে হায়দরাবাদে পাড়ি জমালেও পরীক্ষায় ভালো অবস্থান অর্জন করতে পারেননি। পরে প্রযুক্তি খাতে নিজের প্রথম স্টার্টআপ ছেড়ে স্ত্রী সোনিয়া লাম্বাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন নতুন উদ্যোগ। ২০২২ সালে তারা প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইয়ামি বি’ নামের একটি খাবারের ব্যবসা। যেটির বর্তমান বাজারমুল্য প্রায় ১৩০ কোটি রুপি।

জানা গেছে, দম্পতির এই উদ্যোগের পেছনে ছিল নিজেদের সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খাবার খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা। মেয়ের জন্মদিনের কেক কেনার ক্ষেত্রেও তারা বাড়িতে তৈরি কেককে প্রাধান্য দিতেন, যাতে খাবারে অপ্রয়োজনীয় উপাদান ও প্রিজারভেটিভ না থাকে। একপর্যায়ে সানদীপ নিজের রান্নাঘরেই স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন তৈরির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

স্টার্টআপ পিডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সানদীপ জানগালা বলেন, ‘আমরা সব সময় সন্তানদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার চেয়েছি। তাদের কেক খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও প্রিজারভেটিভ এড়াতে বাড়িতে তৈরি কেক বেছে নিতাম। আমরা এমন খাবার দিতে চেয়েছি, যা নিজেদের পরিবার ও সন্তানদেরও নিশ্চিন্তে খাওয়াতে পারি।’

দম্পতি নিজেদের রান্নাঘরে বিভিন্ন উপাদান নিয়ে পরীক্ষা করতে করতে বুঝতে পারেন, স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্নের এই ধারণাকে ব্যবসায় রূপ দেওয়া সম্ভব। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, এমন খাবার তৈরি করা, যা স্বাস্থ্যকর হওয়ার পাশাপাশি স্বাদেও ভালো হবে।

সানদীপ বলেন, ‘আমাদের রেসিপিতে পরিশোধিত চিনি, ময়দা ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় না। এর পরিবর্তে আমরা মিলেট বা শস্যজাতীয় উপাদান এবং বিকল্প মিষ্টিকারক ব্যবহার করি।’

শুরুতেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে ক্যাফে খোলার পথে হাঁটেননি সানদীপ ও সোনিয়া। বরং মানুষের সাড়া কেমন পাওয়া যায়, তা যাচাই করতে প্রথমে ক্লাউড কিচেন হিসেবে ইয়ামি বি চালু করেন তাঁরা। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সাড়া পাওয়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণের আত্মবিশ্বাস পান দম্পতি। এরপর ভারতের হায়দরাবাদে নিজেদের প্রথম সরাসরি বিক্রয়কেন্দ্র বা ক্যাফে চালু করেন।

ধীরে ধীরে ক্যাফেটিতে বিভিন্ন তারকার আনাগোনাও শুরু হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি বাড়ে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে উৎসাহ পান সানদীপ ও সোনিয়া। হায়দরাবাদে সাড়া পাওয়ার পর তাঁরা বেঙ্গালুরুতেও আরেকটি বিক্রয়কেন্দ্র চালু করেন।

দুই শহরের বিক্রয়কেন্দ্রে খাবার সরবরাহ ও প্রস্তুতির কাজ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয় রান্নাঘর পদ্ধতি ব্যবহার করে। অর্থাৎ, প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে আলাদাভাবে খাবার তৈরি না করে একটি মূল রান্নাঘরেই খাবার প্রস্তুত করা হয়। পরে সেখান থেকে দুই শহরের আউটলেটে সরবরাহ করা হয়।

সানদীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইয়ামি বি প্রায় ২৩ কোটি রুপি আয় করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩০ কোটি রুপি।