৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭

প্রথম পোপ হিসেবে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন লিও

পোপ লিও চতুর্দশ  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের জন্মশহর শিকাগোতে ডাকযোগে (মেইল-ইন) ভোট দিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়া প্রথম পোপ হলেন লিও চতুর্দশ। খবর আল জাজিরার

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভ্যাটিকানের প্রেস অফিস এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন পোপ। নাগরিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি আগেও যোগ্যতা থাকা অবস্থায় ভোট দিয়েছেন।

ভ্যাটিকান আরও জানায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি পোপের বিশ্বাস রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পোপের ভোট দেওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সংগঠন ইউএস কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপস। সংগঠনটির জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক চিয়েকো নোগুচি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের পবিত্র পিতা প্রত্যেক নাগরিককে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করার উদাহরণ স্থাপন করেছেন।’

সংগঠনটি ক্যাথলিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তরা যেন রাজনৈতিক অবস্থানের আগে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেন এবং মানবিক মর্যাদা ও সামষ্টিক কল্যাণ সমুন্নত রাখেন।

পোপ লিও চতুর্দশের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। তার আগের নাম ছিল রবার্ট প্রিভোস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পেরু ও ভ্যাটিকানের নাগরিকত্বও রয়েছে তার। যাজক ও বিশপ হিসেবে তিনি পেরুতে ২০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভ্যাটিকান রাষ্ট্রের প্রধান।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী, বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকেরা ডাকযোগে অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে ভোট দিতে পারেন। এমনকি বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল হয় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রধান, সরকারপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন নাগরিকদের নাগরিকত্বের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পোপের জন্মস্থান ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর ডিক ডারবিনের উত্তরসূরি নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি তারা গভর্নর জেবি প্রিটজকারকে পুনর্নির্বাচিত করবেন কি না, সে বিষয়েও ভোট দেবেন।

গত ৩ অক্টোবর ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেন পোপ লিও। এর মাত্র ১০ দিন পর তার ডান ফুসফুস থেকে ক্যানসার আক্রান্ত একটি টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়। ১৭ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ভ্যাটিকানে ফেরার পর ধীরে ধীরে তিনি নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরছেন।

ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বোর্ডের নথি অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে রবার্ট প্রিভোস্ট হিসেবে পাঁচটি প্রাথমিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ২০০৮ ও ২০১০ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির এবং ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে রিপাবলিকান পার্টির ব্যালট চেয়েছিলেন। তবে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা এসব নথিতে উল্লেখ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পোপ লিওর একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচনা এবং অভিবাসনবিরোধী নীতির বিরোধিতা করায় ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প পোপকে ‘দুর্বল’ এবং ‘উগ্র বামপন্থীদের’ প্রভাবাধীন বলে মন্তব্য করেন। এর জবাবে পোপ লিও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পাই না কিংবা গসপেলের বাণী নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলতেও ভয় পাই না, যে বাণীর জন্যই গির্জা কাজ করে।’