২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৫

সৌদির তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানির দাম

সৌদিতে হামলার মাঝেই বেড়েছে তেলের দাম  © সংগৃহীত

সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। খবর রয়টার্সের।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় ১ ডলার ৩৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ২৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ ডলার ৬২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০১ ডলার ৫২ সেন্ট।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। এতে  দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধন সক্ষমতার স্থাপনাটিতে হামলার খবর বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে। এর আগে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে আলোচনার অগ্রগতির খবরে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় তেলের দাম প্রায় ২ ডলার কমেছিল। কিন্তু নতুন হামলার দাবিতে বুধবার আবার বেড়েছে তেলের দাম।

আইএনজির পণ্যবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা প্রতিফলিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা না হলে বাজারে ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য ধীরে ধীরে কমতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমার তথ্যও বাজারের নজরে এসেছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য উদ্ধৃত করে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ২০ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল কমেছে। তবে এক জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৫ হাজার ব্যারেল বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সরকারি মজুতের প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে।

এদিকে তেলের বাজারে নজর রয়েছে ওপেক প্লাসের আসন্ন বৈঠকের দিকেও। আগামী রোববারের বৈঠকে জোটভুক্ত উৎপাদক দেশগুলো ডিসেম্বরের তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান—এই সাত গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের অধিকাংশই বর্তমানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম তেল উৎপাদন করছে।

অন্যদিকে, আগামী মাসে রাশিয়ার বাল্টিক ও কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমতে পারে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলো ডিজেল উৎপাদন বাড়ালে রপ্তানির জন্য অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের পরিবর্তন, ওপেক প্লাসের উৎপাদননীতি এবং রাশিয়ার রপ্তানি পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।