২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪

বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু ও আইজেনকট সমানে সমান

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু  © টিডিসি সম্পাদিত

ইসরায়েলের বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে ৪৫ বছরের মধ্যে নির্বাচনের এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির ইলেকশন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের মূল্যায়ন করেছেন ভোটাররা। অনেকের মতে, এটি ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, বিরোধী দলগুলোর একটি জোট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। অনেকেই এই নির্বাচনকে ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্ব নির্ধারণী এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নির্বাচনের ফলাফল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির পরবর্তী নেতা কে হবেন, তা স্পষ্ট হয়নি। ভোট গণনা চলতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য জোটগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তথ্যমতে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে ৬১ আসন নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু আপাতত কোনো জোটই সেটা পারছে না।

আল-জাজিরার তথ্য, ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর নতুন বুথফেরত জরিপেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী জোট সমানসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে বলে দেখা গেছে। উভয় জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৫১টি করে। নেতানিয়াহুর এ জোট সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪টি আসন পেয়েছিল৷ 

কান-এর জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি দুটি আসন বাড়িয়ে ২৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি একটি আসন হারিয়ে ২১টি আসন পেতে পারে।

এর আগে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-ও হালনাগাদ বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করে। ওই জরিপেও বিরোধী জোট ও নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫১টি করে দেখানো হয়েছে। চ্যানেল ১৩-এর বুথফেরত জরিপে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলো ১৮টি আসন ধরে রাখতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তথ্যমতে, ইসরায়েলিরা নতুন সরকার গঠনে ‌গাজায় যুদ্ধ এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। তার সরকারের উগ্র ডানপন্থি সদস্যরা গাজা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি উপত্যকাটির বাসিন্দাদের বিতাড়িত করারও দাবি তুলেছেন তারা।

এ কারণে ইসরায়েলের নির্বাচনকে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন গাজার বাসিন্দারা। নির্বাচনী প্রচারও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন অনেকে। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবির থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ এলিয়ান এখন পাঁচ সন্তানকে নিয়ে দেইর আল-বালাহ এলাকায় বসবাস করছেন। তার আশা, ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে বারবার বাস্তুচ্যুতি ও যুদ্ধের শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কিছুটা কমতে পারে।