২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৮

নির্বাচনে হারের পরদিনই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো  © সংগৃহীত

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির ডানপন্থী সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সব পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দি মোরায়েস। খবর গার্ডিয়ানের

সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও নির্বাচনে পরাজয়ের পরও প্রকাশ্যে হার স্বীকার করেননি। তার বাবা জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা-সংক্রান্ত মামলার বিচারও তদারকি করেছিলেন বিচারপতি মোরায়েস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে ফ্লাভিও বলেন, তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর বক্তব্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে ফ্লাভিওর দল এক বিবৃতিতে নির্বাচনের ফল স্বীকার করে নেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনী আদালত ঘোষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল আমরা স্বীকার করছি। তবে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুষম ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিতর্কের মাধ্যমে যথাযথ ব্যাখ্যা হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’

তবে ফ্লাভিও নিজে এখনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি। চার বছর আগে তার বাবাও লুলার কাছে হারের পর একইভাবে পরাজয় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশে পাসপোর্ট বাতিলের কারণ হিসেবে একটি ফৌজদারি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় অর্থপাচারের একটি পরিকল্পনায় ফ্লাভিওর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে দেশটির ফেডারেল পুলিশ। আদেশে ফ্লাভিওকে তার বন্ধু ও আইনজীবী উইলের তোমাজের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তোমাজের সঙ্গে বাজি ধরার ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুলিশ সন্দেহ করছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৬৮ কোটি পাউন্ড অর্থপাচার করা হয়ে থাকতে পারে।

ফ্লাভিওর কংগ্রেস সদস্য হিসেবে পাওয়া কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ তার সব পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলো বিচারকের সিদ্ধান্তের খবর জানার আগেই ফ্লাভিও বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বলেন, ব্রাসিলিয়ায় গৃহবন্দি থাকা বাবার সঙ্গে দেখা করে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, ‘লুলার ফেডারেল পুলিশ তার দরজায় এবং রাস্তার মাঝখানে উপস্থিত ছিল। আমাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশ ছাড়তেও নিষেধ করা হয়েছে।’

ভাইয়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গে ফ্লাভিও বলেন, এদুয়ার্দো যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন। শুক্রবার একটি মার্কিন পডকাস্টে তিনি নির্বাচনে হেরে গেলে ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে ফ্লাভিওর দাবি, ‘আমি কখনো এমন কথা বলিনি।’

আগামী বছরের শুরুতে সিনেটে ফ্লাভিওর মেয়াদ শেষ হলে ২৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তিনি কোনো সরকারি পদে থাকবেন না। ফলে পদাধিকারবলে পাওয়া বিশেষ দায়মুক্তির সুবিধাও তার আর থাকবে না।

ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি মামলাতেও তদন্ত চলছে। বাবার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যাংকারের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড দেওয়ার অনুরোধ করতে গিয়ে তাকে গোপনে ধারণ করা একটি টেপে শোনা যায়। ওই অর্থের পরিণতি কী হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে সাও পাওলো জানিয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রবিবার রাতে ভোট বাতিলের যে পরিকল্পনার কথা ফ্লাভিও জানিয়েছিলেন, তা থেকে সরে আসতে তাকে রাজি করিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আইনজীবীরা। তাদের মতে, এ বিষয়ে তার আইনি যুক্তি দুর্বল।

ফ্লাভিওর অভিযোগ ছিল, ভোট দেওয়ার জন্য বিনা মূল্যের বাধ্যতামূলক গণপরিবহন ব্যবহারে সমস্যায় পড়া ভোটারদের সুযোগ দিতে ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। তার দাবি, এতে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত হয়েছে। তবে তার নিজের নির্বাচনী শিবিরও ভোটের সময় বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহযোগী ও আইনজীবীরা তাকে বোঝান, নির্বাচন বাতিলের দাবি আইনি দিক থেকে দুর্বল। তবে ফ্লাভিও প্রকাশ্যে এখনো ওই দাবি প্রত্যাহার করেননি। একই ভিডিওতে তিনি জানান, অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে লুলার নির্বাচনী জোটকে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে নতুন মামলা করবেন। নির্বাচনী প্রচারের সময়ও তার আইনজীবীরা একই ধরনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন।