সিরিয়ায় বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৭, একই পরিবারের ৫ জন
জর্ডানের গির্জায় বন্দুক হামলার জবাবে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী। সোমবারের (২৬ অক্টোবর) এসব হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। হামলার পর দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাসিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া। খবর আল জাজিরার।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি, গত শুক্রবার দেশটির কারাক প্রদেশের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় বন্দুক হামলার জবাবে দক্ষিণ-পূর্ব সিরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানুষের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সিরিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং একাধিক যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। তবে জর্ডানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে সিরিয়া সরকার। দেশটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের পূর্বসমন্বয় বা আগাম অবহিতকরণ ছাড়াই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তেরও ঘোষণা দিয়েছে দামেস্ক।
সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় দেরা ও সুয়েইদা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় অন্তত চারটি স্থানে বিমান হামলা হয়। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিন পুরুষ, এক নারী ও তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজন রয়েছেন। দেরা প্রদেশের আল-তাই গ্রামের একটি তাঁবুতে চালানো হামলায় এক পুরুষ, এক নারী ও তিন শিশু নিহত হন। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
এ ছাড়া দেরার আল-শাইয়াহ এলাকায় হামলায় ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। দেরা প্রদেশের আইন আল-বাসাল এলাকার মুজাইরিবে একটি আবাসিক ভবনেও হামলা চালানো হয়। তবে সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সুয়েইদা প্রদেশের শাহবা শহরের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
বিমান হামলার পর সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ নাসিব ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যাত্রী ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথটিতে উভয় দিকের চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে পরিস্থিতির পরিণতি মোকাবিলার চেষ্টা করবে সরকার।
এদিকে, গির্জায় হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবার দুই ভাই ও তাঁদের এক ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী। আল-জাদিদা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর তাঁদের আটক করা হয়। জর্ডান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে সন্দেহভাজনরা গুরুতর আহত হয়েছেন।
গির্জায় হামলার পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে কারাকের একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর তিন বন্দুকধারী গুলি চালায়। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার কথা জানান বাদশাহ। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন তিনি।
জর্ডানে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। দেশটির খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আনুমানিক তিন লাখ।
সূত্র: আল জাজিরা