২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ায় সৌদিতে জেল খাটছেন ভারতীয় যুবক

প্রতীকী ছবি  © টিডিসি এআই জেনারেটেড

মক্কার একটি মসজিদে দুই বাংলাদেশির চুম্বনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সৌদি আরবে কারাগারে রয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের যুবক সাহাবুদ্দিন শেখ। তার পরিবারের দাবি, ২০২৩ সাল থেকে টানা তিন বছর ধরে তিনি সৌদির কারাগারে বন্দি। সম্প্রতি ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের।

ইন্ডিয়ান এক্সেপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে, সাহাবুদ্দিনের বাড়ি মুর্শিদাবাদের বলরামপুরে। কাজের সন্ধানে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন মক্কার একটি মসজিদে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন সাহাবুদ্দিন। সে সময় তার চোখের সামনেই এক বাংলাদেশি যুগলকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মুহূর্তের ভিডিও সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ধারণ করেন পাকিস্তানের এক ব্যক্তি। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সৌদি প্রশাসন এ ঘটনায় পদক্ষেপ নেয়। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, ভিডিওটি শেয়ার করার পরিণতি এত গুরুতর হতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘ও বড় কোনো অপরাধ তো করেনি। একটা ভিডিও ছেড়েছে বলে এভাবে জেল খাটতে হচ্ছে!’ ছেলের কারাবন্দি জীবনের কারণে পরিবারটি আর্থিক সংকটেও পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সাহাবুদ্দিন। তাঁর পাঠানো অর্থেই সংসার চলত। বর্তমানে ছেলে কারাগারে থাকায় কোনোমতে দিন কাটছে তাদের।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশের পর সাহাবুদ্দিনের পরিণতি নিয়েও আতঙ্কিত তাঁর মা। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কোহিনুর বিবি বলেন, ‘আমার ছেলের কী হবে জানি না। ভয়ে ভয়ে আছি।’

সাহাবুদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, তাকে সৌদির কারাগার থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।

উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আখতার। সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন’ করেছেন তাঁরা।

এদিকে, দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, তাদের মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে, মরদেহ কোথায় রয়েছে এবং বিচারের সময় তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাহাবুদ্দিনের কারাবাস ও তাঁর পরিবারের উদ্বেগও নতুন করে সামনে এসেছে।