২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৮

নাবালিকাকে চুমু, নগ্ন করে কলকাতার পথে হাঁটানো হলো তরুণকে, সঙ্গে বাবাকেও!

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার সরশুনায় এক কিশোরীকে চুম্বনের অভিযোগে এক তরুণ, তার বাবা ও এক বন্ধুকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। প্রায় ৫০ মিটার পথ তাদের নগ্ন অবস্থায় হাঁটতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় কিশোরীর মা-বাবা ও মামাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। খবর আনন্দবাজারের

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতার সরশুনা থানা এলাকার খালপাড় মাঠের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মামা রাহুল বর্মন ও মা রিঙ্কু সরকার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণ ১৯ বছর বয়সী এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে যান। কথা বলার একপর্যায়ে তরুণ কিশোরীকে চুম্বন করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি দেখে ফেলেন কিশোরীর মামার এক বন্ধু। পরে তিনি কিশোরীর বাবা ও মামাকে ঘটনাটি জানান। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, কিশোরীর বাবা ও মামা দুই তরুণকে ক্ষুদিরামপল্লিতে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে মামার ডাকে আরও কয়েকজন উপস্থিত হন। বাড়িতে দুই তরুণকে দীর্ঘক্ষণ হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তরুণের বাবাকেও সেখানে ডেকে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তিনজনের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তাদের পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। বাড়ির সামনের রাস্তায় তাদের নগ্ন অবস্থায় হাঁটানো হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী তরুণের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সরশুনা থানায় মামলা হয়। মামলায় হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত, অপহরণ, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, সম্মানহানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের নাম এফআইআরে রয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানতে এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। দুই তরুণের চিকিৎসা পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্যও রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, পোশাক খুলতে বাধ্য করার সময় তাঁদের মাথায় বন্দুক ঠেকানো হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা এখনো ঘটনাস্থল থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেননি। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।