২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১১

প্রথমবারের মতো মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান 

মক্কা জোটের নেতাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইরান  © সংগৃহীত

হুথিদের হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়া সৌদি আরবের উদ্যোগে ইরানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির শীর্ষ নেতারা। তাতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক জোটটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে তারা। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে সৌদি ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, আলোচনায় ‘ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব’ গুরুত্ব পাবে। বাঘাই বলেন, গত সপ্তাহে আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় এই বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি জানান, বর্তমান সংকটের উত্তেজনা কমানো, কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়া এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগে সহায়তা করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ এই বৈঠক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি এ লক্ষ্য অর্জনে অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরে।’

এর আগে রবিবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতা করে আসছে কাতার। পাকিস্তান ও কাতারের আগের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে।

এদিকে, ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের হামলা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেড়েছে। রোববারও সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নতুন একটি ঢেউ প্রতিহত করেছে। হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে একমত হন তারা।

গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত কোনো দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি হুমকি মোকাবিলায় ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেন। জবাবে ইরানের নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান চালালে আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা চালালে পারস্য উপসাগরের পানির নিচের যোগাযোগ কেব্‌ল লক্ষ্য করে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইরান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা স্মারকলিপিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের ষড়যন্ত্র ‘উন্নত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।