বিক্ষোভস্থল খালি করতে শিক্ষার্থীদের ৩০ মিনিটের আলটিমেটাম দিল জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
টানা ১৪ দিন ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় জারি করা নির্দেশনায় আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভস্থল খালি করতে ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মহতাব আলম রিজভি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জায়গা খালি না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পঠনপাঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে প্রশাসন আন্দোলনকারীদের দ্রুত অবস্থান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের একাংশ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমঝোতা হলেও আন্দোলন পুরোপুরি থামেনি। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আশ্বাস পেলেও নির্বাচন আয়োজনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও সংবিধান অনুমোদনের দিনক্ষণ স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
রেজিস্ট্রারের নির্দেশ অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে বিক্ষোভস্থল খালি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হবে। ৩০ মিনিটের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্যাম্পাসে পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে উপাচার্য মাজহার আসিফ, রেজিস্ট্রারসহ ১ হাজার ৫০০-এর বেশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী বিক্ষোভস্থলে গিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আন্দোলনকারীদের অবস্থান ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরা অনশন শেষ করলেও আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি হননি।
২০০৬ সালের পর থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনরুদ্ধার, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জারি করা সাসপেনশন ও শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার এবং আন্দোলনের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা তদন্তের দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক নোটিশ প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছে। তবে ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় শিক্ষার্থীদের একাংশ সেই সমঝোতায় সন্তুষ্ট নন। এ ছাড়া মুখ্য প্রোক্টরের পদত্যাগের দাবিও কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করেনি বলে তাঁদের অভিযোগ।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এর আগে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের গেট ও গ্রন্থাগার বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়।
এদিকে আন্দোলন প্রত্যাহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার পর একাংশ আন্দোলন শেষ করার পক্ষে থাকলেও অন্যরা দাবি পূরণে নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চান। এমন পরিস্থিতিতে রেজিস্ট্রারের ৩০ মিনিটের আলটিমেটাম শিক্ষার্থীরা কীভাবে নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।