২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা

লুইজ ইনাসিও লুলা  © সংগৃহীত

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন ৮০ বছর বয়সী এই নেতা। প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর ভোট ৪৮ দশমিক ২২ শতাংশ। খবর বিবিসি। 

প্রতিবেদন ও দেশটির নির্বাচন কতৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে পিছিয়ে ছিলেন লুলা। তবে পরবর্তী তিন সপ্তাহে প্রচার জোরদার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতা এবং রাজপথের সমাবেশের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৪২ লাখ ভোট পেয়ে জয়ী হন তিনি।

জয় পেলেও সহজ হবে না লুলার নতুন মেয়াদ:
লুলার নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি। তবে কংগ্রেসে সমর্থন আদায় এবং বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সমঝোতা করতে না পারলে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। ফলে নির্বাচনে জয়ের পরও লুলার সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দেশটির কংগ্রেসে ডানপন্থীদের শক্তিশালী অবস্থান তাঁর সরকার পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে বাধা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোটার ফ্লাভিও বলসোনারোকে সমর্থন করায় ব্রাজিলের রাজনৈতিক বিভাজনের চিত্রও স্পষ্ট হয়েছে।

নতুন মেয়াদে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধ দমন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো লুলার সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুযোগ বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিভক্ত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করাই বড় পরীক্ষা:
ব্রাজিলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। এবারের জয় তাঁকে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ দিল।

নির্বাচনের আগে লুলা বলেছিলেন, ব্রাজিলের রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে চান তিনি। কিন্তু নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে, দেশটির একটি বড় অংশ এখনো ডানপন্থী রাজনীতির প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছে।

তাই নতুন মেয়াদে লুলার সাফল্য নির্ভর করবে শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নয়; বরং বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং বিভক্ত জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জনের ওপরও।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কেও থাকবে নজর:
ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার জয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লুলা ওয়াশিংটনের প্রভাবের বাইরে ব্রাজিলের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার পক্ষে। অন্যদিকে, ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

চীনের সঙ্গে ব্রাজিলের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্যনীতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। ফলে লুলার নতুন মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

লুলার জয়কে পরিবেশবাদীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ফ্লাভিও বলসোনারো ক্ষমতায় এলে কৃষি ও খনি খাতের স্বার্থে পরিবেশগত বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে। এতে আমাজন বনাঞ্চলে বন উজাড় ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর শাসনামলে আমাজন বনাঞ্চলের পরিবেশনীতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। লুলা আবারও ক্ষমতায় আসায় বন সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশগত আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।