১২ বছর অপেক্ষার পর যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েই মারা গেলেন মা, পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ
বিয়ের প্রায় যুগ কেটে গেলেও বাচ্চা হচ্ছিল না সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারওয়া আহমেদ আল আমিন বখিতের। দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার পর যমজ সন্তানের মা হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়েছিলেন। তবে তাদের এই খুশি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রাণ হারান ৩৬ বছর বয়সী এই নারী।
মাকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় দুই নবজাতক ছেলে ফাহদ ও ফাহেদের ভবিষ্যৎ। এমন পরিস্থিতিতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে দুবাই পুলিশ। মারওয়ার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি, যাতে পরিবারটির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আজমানের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারওয়ার যমজ ছেলের জন্ম হয়। প্রথম সন্তানকে কোলে নেওয়ার সুযোগ পেলেও দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়। পরে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধাসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
মারওয়ার স্বামী ওসমান আহমেদ মোহাম্মদ আল মাক্কি জানান, সন্তান জন্মের আগে তার স্ত্রীকে সুস্থ মনে হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত মারওয়াকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জন্মের পর দুই নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের খালা। আবুধাবিতে নিজের পাঁচ সন্তানের সঙ্গে এখন মারওয়ার দুই ছেলেকেও লালনপালন করছেন তিনি। অন্যদিকে, আজমানে থাকা বাবা কয়েক দিন পরপর সন্তানদের দেখতে যান।
মারওয়ার পরিবার ও দুবাই পুলিশের সম্পর্ক প্রায় পাঁচ দশকের। ১৯৭৯ সালে তার বাবা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে ১৯৯৩ সালে মারওয়ার মাকেও চাকরি দেয় দুবাই পুলিশ। পরে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে সংস্থাটি।
২০১৬ সালে মায়ের মৃত্যুর পর মারওয়া নিজেই দুবাই পুলিশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেন। একপর্যায়ে তিনি পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীতে পরিণত হন। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে মারওয়ার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে দুবাই পুলিশ। পাশাপাশি হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা, দাফনের ব্যবস্থা এবং শোকাহত স্বজনদের সহায়তা করার কাজেও এগিয়ে আসে সংস্থাটির সদস্যরা।
মারওয়ার স্বামীর ভাষ্য, শোকের এই সময়ে দুবাই পুলিশের সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। একদিকে স্ত্রীকে হারানোর শোক, অন্যদিকে দুই নবজাতককে বড় করে তোলার দায়িত্ব—এমন কঠিন সময়ে পুলিশের এই উদ্যোগ পরিবারটির সামনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি করেছে।