২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯

জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৭

জর্ডানের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী  © সংগৃহীত

জর্ডানের একটি গির্জায় শেষকৃত্য চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) কারাক গভর্নরেটের হামুদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। খবর বিবিসি বাংলা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি গাড়িতে করে এসে বন্দুকধারীরা গির্জায় প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তারা পালিয়ে যায়। হামলার সময় গির্জাটিতে ১৫০ থেকে ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া হামলাকারীদের ‘চরমপন্থী গোষ্ঠী’ উল্লেখ করে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।’

এ বিষয়ে দেশটির বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘কারাককে চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে তিন বন্দুকধারীকে গির্জার দিকে যেতে দেখা যায়। তিনজনের হাতেই বন্দুক ছিল। হামলার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির হাত থেকে বাঁচতে কেউ বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নেন অথবা জানালা থেকে দূরে সরে যান, কেউ সন্তানদের নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী খালিদ আল-মদানাত বিবিসি আরবিকে জানিয়েছেন, হামলাটি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে।  তিনি বলেছেন, ‘মানুষ গুলি চলার মধ্যেই পালানোর চেষ্টা করছিল। কেউ আশ্রয় নিচ্ছিলেন, কেউ নিহতদের জড়িয়ে ধরে ছিলেন। কেউ সন্তানদের কাছে টেনে নিচ্ছিলেন, আবার কেউ পালাচ্ছিলেন। অন্যরা গির্জায় থাকা বন্ধুদের আঁকড়ে ধরেছিলেন।’

খালিদ আরও বলেছেন, ‘বন্দুকধারীরা গির্জার দরজা দিয়ে বেরিয়ে একটি পিকআপে করে পালিয়ে যায়। পালানোর সময়ও তারা গুলি চালাচ্ছিল।’

গির্জায় উপস্থিত এক নারী বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রার্থনার কয়েক সেকেন্ড পর বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। এরপর গুলির শব্দ ও কাচ ভাঙার আওয়াজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি প্রায় ১০ মিনিট ধরে ভয়াবহ হয়ে ওঠে।’ গির্জা থেকে বেরিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

হামলার পর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আশপাশের কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহতদের দেখতে বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর যাওয়ার কথা থাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। হাসপাতাল এলাকায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে শোকে পরিস্থিতি ভারী হয়ে ওঠে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া এ ঘটনাকে বেদনাদায়ক ও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, ‘জর্ডানের হাশেমীয় রাজ্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।’

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। লেবাননের গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদন জানিয়েছে, এ ঘটনাকে ‘জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। জোসেফ আউন বলেছেন, ‘এ হামলা মৃত্যুর পবিত্রতা ও শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া শোকাহত ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মান এবং সব ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।’

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত জর্ডানের কারাক এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। দেশটিতে এ ধরনের সহিংসতা বিরল হলেও অতীতেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।