২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশির ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কানাডার পতাকা  © সংগৃহীত

কানাডায় ২০৯ বাংলাদেশির ভিসার আবেদনে জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাদের জন্য মোট ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থা (সিবিএসএ)। এর মধ্যে চারজন আদালতে হাজির হয়েছেন। অপর একজন বাংলাদেশে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডা সরকারের অফিসিয়াল তথ্য, ভিসা ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সেবা পোর্টাল কানাডা.সিএ সিবিএসএ-এর একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম ও মো. রাকিবুল হাসান। বৃহস্পতিবার মামলার চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভিসার আবেদনগুলোতে কানাডার কয়েকজন নাগরিককে আমন্ত্রণকারী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তবে এসব আবেদনের সঙ্গে জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের কানাডায় আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

সিবিএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়েতে একটি ব্যক্তিগত বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহ দেখা দিলে ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। এসব স্থান থেকে কাগজপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সেগুলো পরীক্ষা করে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। তদন্তের জন্য ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদন বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা, ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করা এবং অন্যদের দিয়ে দেশটির অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করা। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের আরও ৫৫টি তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।

কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি জানিয়েছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়বিচার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর নির্ভরশীল। কেউ প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নিতে চাইলে তাকে গুরুতর আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেছেন, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী চক্রগুলো শনাক্ত ও তাদের কার্যক্রম বন্ধে কাজ করছে সংস্থাটি।

তথ্যসূত্র: কানাডা.সিএ, দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে