২১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩০

ডিভি লটারি নিয়ে বড় দুঃসংবাদ দিল ট্রাম্প প্রশাসন

আমেরিকার ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে বড় দুসংবাদ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।  © সংগৃহীত

মার্কিন ফেডারেল আদালতের রায়ে চালু হতে যাওয়া আমেরিকার ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে বড় দুসংবাদ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার বহুদিন ধরে স্থগিত থাকা ডিভি লটারি বা ভিসা চালু করার ফেডারেল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের ওই নির্দেশ স্থগিত রাখার আবেদনও জানিয়েছে প্রশাসন। খবর নিউজউইকের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা অভিবাসন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল (এলসি)-এর করা একটি মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এতে লটারিতে নিবন্ধন কার্যক্রম দিয়ে ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহাসিকভাবে কম হারে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়া হয়। সরকার গত ১৯ অক্টোবর বিচারক ওহার জারি করা প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আদেশগুলো চ্যালেঞ্জ করে আপিলের নোটিশ জমা দেয়। পাশাপাশি, আপিলের শুনানি চলাকালে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত রাখার জন্য আলাদা আবেদনও করে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা দিয়েছিল, ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে আবেদনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন শুরুর তারিখ ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

তবে আদালতের রায় অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছর ১ অক্টোবর শুরু হওয়ার পরও নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়নি। বিচারক বলেন, এর ফলে কার্যত কর্মসূচিটি বাতিল হয়ে গেছে। কারণ, লটারিতে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন না করলে কেউ ডাইভারসিটি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না।

বিচারক ওহতা তার আদেশে লেখেন, ‘২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘোষিত সাময়িক স্থগিতাদেশ কীভাবে অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশে পরিণত হলো এবং ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়া পর্যন্ত কেন তা বহাল থাকল, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ব্যাখ্যা না থাকা এবং এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের বিষয়টি কর্মকর্তারা বিবেচনা করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট না করায় আদালত এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে যে ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘স্বেচ্ছাচারী ও খামখেয়ালিপূর্ণ’।

কেন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন বিচারক

বিচারক ওহতা বলেন, প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করেছে রেড ঈগল ল। তার মতে, মামলায় প্রতিষ্ঠানটির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, ২০২৭ সালের লটারি প্রথমে সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর কেন তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হলো, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

বিচারক আরও বলেন, কর্মসূচি স্থগিত থাকলে রেড ঈগল ল-এর গ্রাহক ও আয় কমে যাবে। মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, কর্মসূচি পুনরায় চালু করলে সরকারের ওপর অন্যায্য কোনো চাপ সৃষ্টি হবে না। বরং পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফেডারেল আইন মেনে চলতে বাধ্য করার মাধ্যমে জনস্বার্থ রক্ষা হবে।

অন্যদিকে, সরকার যুক্তি দিয়েছে, নিবন্ধনের নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে পেরিয়ে যাওয়ার পর আদালত লটারি চালুর নির্দেশ দিতে পারে না। এ ছাড়া কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হলে তা দেশজুড়ে কার্যকর হওয়া একটি অনুপযুক্ত নিষেধাজ্ঞার শামিল হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পুনরায় চালু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই লটারির নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আদালতের অনুমোদন পাওয়া উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংশোধিত সময়সীমা অনুযায়ী, নিবন্ধন শুরুর সময়সূচি ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ঘোষণা করতে হবে। আর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধন চালু করতে হবে। নির্বাচিত আবেদনকারীদের ডিসেম্বরের মধ্যে অবহিত করতে হবে।