১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৪

মাঝআকাশে খুলে গেল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা, ঢাকায় জরুরি অবতরণ

ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ঢাকায় জরুরি অবতরণ  © টিডিসি ছবি

বাংলাদেশের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মাঝআকাশে খুলে যায় ভারতীয় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রধান দরজা। পরে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করে। উড়োজাহাজে থাকা রোগীকে ঢাকার কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র রিয়াজ উদ্দিন জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যাচ্ছিল। পথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যায়। পরে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় অবতরণের অনুমতি চান।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উড়োজাহাজটি ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় এর কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় (কেবিন প্রেসারাইজেশন) ত্রুটি দেখা দেয়। এতে উড়োজাহাজটির প্রধান দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিকভাবে খুলে যায়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। উড়োজাহাজটি ঢাকায় অবতরণের আগেই শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী যান, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়।

পরে উড়োজাহাজটি ঢাকার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা ক্রু ও অন্য আরোহীরা নিরাপদে ছিলেন। তবে অসুস্থ রোগীকে দ্রুত কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসনের ছোট উড়োজাহাজটি ‘বিচক্র্যাফট কিং এয়ার’ মডেলের। এটি ১৯৯৪ সালে তৈরি হয়। একসময় উড়োজাহাজটি ভারতের হরিয়ানা রাজ্য সরকারের মালিকানায় ছিল। পরে এটি ‘ঝংকার এভিয়েশন’ নামের একটি বেসরকারি এয়ারলাইনসের অধীনে যায়। সর্বশেষ এটি পরিচালনা করছিল ‘এসকেবি ইন্ট্রাকন’।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে দুজন ক্রু, একজন রোগী, একজন চিকিৎসক, একজন প্যারামেডিক এবং রোগীর দুজন স্বজন ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র রিয়াজ উদ্দিন।