মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি
ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে মোটরসাইকেলে থাকা ৩ ব্যক্তি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক আহত হয়েছেন। একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। খবর এনডিটিভির
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অনিল পণ্ডিত পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন। তিনি হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, টাইগার শ্রফ তাদের নির্দেশনা মানছিলেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে তিনি তাদের নিশানায় ছিলেন।
অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো। আজ টাইগার শ্রফের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার দায় আমরা নিচ্ছি—আমি ও হারমান সান্ধু।’
তিনি আরও দাবি করেন, টাইগার শ্রফকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা বোঝেননি। এরপর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘পুরো চলচ্চিত্রশিল্পে যারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে কাজ করবে, কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাদের হত্যা করা হবে। এটাই প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা।’
অডিওতে সালমান খানকে লরেন্স বিষ্ণোই এবং প্রাণীপ্রেমী বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়। কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানের কথিত সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেন, ক্ষমা না চাইলে সালমানের পরিবারের কাউকে, এমনকি তার পোষা কুকুরদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে দেওয়া পরিচয় ও দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টাইগার শ্রফ ও সালমান খান এখন পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য কোনো চলচ্চিত্রে একসঙ্গে অভিনয় করেননি। তবে বলিউডে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সংযোগ রয়েছে। জানা গেছে, প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে টাইগারকে বলিউডে অভিষেক করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন সালমান। টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফও সালমানের সঙ্গে একাধিক বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি অ্যাকশন সিনেমা ও শরীরচর্চার প্রতি নিজেদের আগ্রহ নিয়েও তারা পরস্পরের প্রশংসা করেছেন।
২০২৩ সালে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) জানিয়েছিল, কারাবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সম্ভাব্য ১০টি প্রধান লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় সবার ওপরে ছিলেন সালমান খান। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত লাগার অভিযোগকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির এ ঘটনা মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকিকে হত্যার প্রায় দুই বছর পর ঘটল। ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় গুলিতে নিহত হন বাবা সিদ্দিকি। সালমান খানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কারণে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিল।