কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভিড়ে পদদলিত হয়ে নিহত ১৭
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে ভিড়ে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে বাইরে প্রবল বৃষ্টি চলাকালে মণ্ডপের ভেতরে উপচে পড়া ভিড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।
এনডিটিভি জানিয়েছে, চোরাবাগান সর্বজনীন পূজা মণ্ডপে ১৭ জন নিহতের পাশাপাশি আহত অন্তত ৩৫ জনকে নিকটবর্তী এমসিএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মেডিকেল কলেজের ‘একটি সূত্রের’ বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা ১৭ জনের মৃত্যুর কথা লিখেছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একটি শিশু ও ১৩ জন নারী রয়েছে।
এক বিবৃতিতে কলকাতা পুলিশ বলেছে, রাত প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে গিরিশ পার্ক থানার সারদা পার্ক (চোরাবাগান) পূজা মণ্ডপের বাহির হওয়ার গেটে বৃষ্টি চলাকালে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পদদলনের একটি ঘটনা ঘটেছে। আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে এমসিএইচে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, পূর্জা মণ্ডপটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, পদদলনের ঘটনায় অনেক মানুষ জ্ঞান হারান। অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রবেশপথটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ছিল, বের হওয়ার পথটিও সংকীর্ণ। মণ্ডপের ওই অংশে কোনো আলোকসজ্জা ছিল না। আমরা মেয়ে ও নাতনীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্য আরেকটি প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, আমরা চার বান্ধবী ছিলাম। বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল বলে কিছু মানুষ বের হওয়ার গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ধাক্কা এলে সামনে যারা ছিলেন তারা পড়ে যান। এরপর একের পর একজন আরেকজনের ওপর পড়তে থাকেন। সামনে যারা ছিলেন তারা কিছুতেই উঠতে পারছিলেন না। চাপা পড়ে থাকায় তাদের টেনেও বের করা যাচ্ছিল না। আমার তিন বান্ধবীই তলায় চাপা পড়ে যায়। নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। বহু লোক জ্ঞান হারান।
তিনি জানান, অন্য দিকের প্যান্ডেল ভেঙে আহতদের উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। শুভেন্দু জানিয়েছেন, ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (এমসিএইচ) সূত্রের বরাতে এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, হাসপাতালে যাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।