১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০০

মুচলেকা দিয়ে যে শর্তে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকে

অভিজিৎ দীপকে  © সংগৃহীত

ভারতের দিল্লির একটি আদালত ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দেওয়া এবং শান্তি বিঘ্নিত না করার অঙ্গীকারের শর্তে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে চলমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ‘তিরঙ্গা মার্চ’ করতে দিল্লির কনট প্লেসে যাওয়ার পরিকল্পনার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালতের নির্দেশে মুচলেকা দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান।

ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুনানি শেষে দীপকে মন্দির মার্গ থানার বাইরে বেরিয়ে আসেন।

মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান দীপকে। তিনি ২০০৪ সালের ‘বীর-জারা’ সিনেমায় শাহরুখ খানের একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে পাকিস্তানের কারাগারে ২২ বছর কাটানোর পর মুক্তি পেয়ে চরিত্রটিকে কাঁদতে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে দীপকে লেখেন, ‘ওয়াইফাই ও ফোন ছাড়া ২৪ ঘণ্টা কারাগারে কাটানোর পর বাইরে বেরিয়ে আসার অনুভূতি।’

শুক্রবার দীপকের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করে পুলিশ। শনিবার ভোরে তিনি মুক্তি পান। দিল্লি পুলিশ জানায়, দীপকেকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে একটি প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। মিছিলে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আয়োজকেরা। এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেহা বোরাসহ দীপকেকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে শিক্ষার্থী ও অন্যরা জাতীয় পতাকা হাতে ছোট ছোট মিছিল করেন।

দিল্লি পুলিশ জানায়, দিল্লি পুলিশ আইনের আওতায় আটকসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় নতুন একটি মামলায় দীপকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজের ভেতর থেকে দীপকে আটক করেছিল পুলিশ। সে সময়ও শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দিতে হয়েছিল।

এদিকে, জনসমাবেশের স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি গত সপ্তাহে বাতিল হওয়ার পর সেখানে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

মুক্তি পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন নেহা বোরা। তিনি তার আটকের ঘটনাকে বেআইনি বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন—এসআইআর) বন্ধের দাবি জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে কারাগারে পাঠানোরও দাবি জানান তিনি।

এর আগে প্রতিবাদ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দীপকের বাড়িতে পুলিশ গেলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে ফাঁসিতে ঝোলান।’

নেহা বোরা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘আমাকে মান্ডি হাউস থেকে আটক করা হয়েছিল। ভোর ৫টা পর্যন্ত সারা রাত আমাকে এখানে (থানায়) রাখা হয়। আপনারা (পুলিশ) কেন এভাবে বেআইনিভাবে আটক করছেন? দীর্ঘদিন ধরেই দেশে এমন ঘটনা ঘটছে। এই প্রতিবাদ আন্দোলন স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে এ ধরনের আটক চলছে। আন্দোলন এসব আটকের ঘটনা সামনে এনেছে। তারা দাবি করে, আইনশৃঙ্খলা মেনে চলে এবং আইন অনুযায়ী কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনোটিই হচ্ছে না।’

আইসার সভাপতি আরও বলেন, দীপকেসহ যেসব বিক্ষোভকারীকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলে আসছে, তাদের সব সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি চলমান প্রতিবাদকে ‘বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত’ এবং ‘নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিরোধী দল, সিজেপি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল। এদিকে, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ঘিরে রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। পার্কের ভেতরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীও রাখা হয়।