১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩

কোকেন সেবনের পর লন্ডনের রাস্তায় অচেতন আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য

রাজপরিবারের সদস্য   © টিডিসি ছবি

কোকেন সেবনের পর পশ্চিম লন্ডনের রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির রাজপরিবারের সদস্য মাহরাহ আল নাহিয়ান। এ সময় তার পাশেই ছিল তিন বছরের একটি শিশু। শিশুটিকে জুতা ছাড়া রাস্তার পাশে একা ঘুরতে দেখে পথচারীরা এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ পৌঁছানোর আগপর্যন্ত তারা শিশুটির দেখাশোনা করেন। এ ঘটনায় শিশুকে অবহেলায় রাখার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন ৩২ বছর বয়সী মাহরাহ।

গত ১৩ জুন এ ঘটনা ঘটে। পথচারীরা মাহরাহকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তিনি কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। পরে তাকে জাগানো হলে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো কসাইখানা নয়; আপনারা এতটা চিন্তা করছেন কেন? আপনারা এত উদ্বিগ্ন কেন?’

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মাহরাহকে তল্লাশি করে। এ সময় তার কাছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার পর মাদকাসক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য মাহরাহকে ইংল্যান্ডের সারে এলাকার ওকিংয়ে অবস্থিত প্রিয়রি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দক্ষিণ লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে শিশুকে অবহেলায় রাখার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন তিনি। বিয়ের সূত্রে মাহরাহ রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি প্রতি মাসে আট হাজার পাউন্ড ভাতা পান।

আদালতে মামলার কৌঁসুলি রিও পাহলাভানপুর বলেন, পথচারীরা শিশুটিকে জুতা ছাড়া রাস্তায় একা দেখতে পান। শিশুটির সঙ্গে একটি স্কুটার ছিল। এ সময় শিশুটি চলন্ত যানবাহনের কাছাকাছি থাকায় উপস্থিত লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে আসেন।

তবে মাহরাহর আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি আদালতে বলেন, ওই দিনের ঘটনায় মাহরাহ স্বীকার করেছেন যে তিনি ‘গুরুতর ভুল’ করেছিলেন। তবে যেদিন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, সেদিন তিনি মাদক সেবন করেননি বলে দাবি করেন আইনজীবী। তার ভাষ্য, এর আগের কয়েক দিনে মাদক সেবনের কারণে মাহরাহ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।

আইনজীবী আরও বলেন, মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে মাহরাহর মধ্যে ‘অনুশোচনা ও দৃঢ় সংকল্পের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে।

মাহরাহর পুনর্বাসন পরিকল্পনা তুলে ধরে স্টিফেন ভুলো কেসি বলেন, ‘তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা হলো, তিনি তিন মাসের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির সব ধাপ সম্পন্ন করতে চান। চলতি মাসের শেষ দিকে এই কর্মসূচি শেষ হবে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর মাহরাহ গিল্ডফোর্ড এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সেখান থেকে তিনি নিয়মিত ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নেবেন।

আদালত মাহরাহ আল নাহিয়ানকে দুই বছর মেয়াদি একটি কমিউনিটি পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা দিতে হবে।