১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৪

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ১১৫০ হুতি যোদ্ধা নিহতের দাবি

ইয়েমেনের সরকারের সামরিক বাহিনীর অভিযান  © সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১ হাজার ১৫০ হুতি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে হুতিদের অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদাম এবং অন্তত ১৮০টি যুদ্ধ, পরিবহন ও সরবরাহকারী যান ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে তারা।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি এ তথ্য জানিয়েছেন। ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামের অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থলবাহিনীও হুতিদের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে এবং সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে হুতি যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা ও অভিযানের বিষয়ে দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা। এদিকে, শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এ হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

বিমানবন্দরে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যোগ দেবে কি না, সাংবাদিকেরা হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ‘শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন’।

শনিবার ইয়েমেন থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা ইউসুফ মাওরি জানান, সর্বশেষ বিমানবন্দরে হামলার দায় এখনো স্বীকার করেনি হুতিরা। তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি বিমান চলাচলকারী সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার ওপর দিয়ে চলাচল ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় পরিচালিত যেকোনো উড়োজাহাজ তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।

মাওরি জানান, হুতিরা একাধিক রণাঙ্গনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের মতো আন্তর্জাতিক পক্ষের অংশগ্রহণের বিষয়টিও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হুতিরা বলছে, পাকিস্তান যদি সৌদি আরবের হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক তৎপরতায় অংশ নেয়, তাহলে পাকিস্তানকেও একইভাবে মোকাবিলা করা হবে, যেভাবে বর্তমানে সৌদি আরবকে মোকাবিলা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং লোহিত সাগর ও আরব সাগরে পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।’

লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগী গবেষক ও ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ বারাআ শিবান আল জাজিরাকে বলেন, ‘লড়াই একাধিক রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সহিংসতা শিগগিরই কমে আসার কোনো লক্ষণ নেই। এবার কোনো মধ্যস্থতা হচ্ছে না। পরিস্থিতি শান্ত করার মতো আঞ্চলিক বা স্থানীয় কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই।’

এদিকে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা পুনর্দখলের লক্ষ্যে হুতিদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে। লোহিত সাগরে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের প্রবেশ ও বহির্গমনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতেই তাদের এ অভিযান।

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা ও ধুবাব শহরের আশপাশে এখন তীব্র লড়াই চলছে। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এ দুই শহর বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে হুতিরা। গত সেপ্টেম্বর মাসে তারা প্রণালির আশপাশের এলাকাও দখল করে নেয়। এর ফলে কার্যত প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়। তবে নৌযান চলাচলের পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের দাবি করছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা