কেন দিল্লীতে থাকছেন না সোনম ওয়াংচুক— বললেন নিজেই, দিলেন বিজয়ী বার্তাও
দিল্লীর যন্তর মন্তরে পুলিশি বাধা ডিঙিয়ে চলছে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা প্রধান কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ। গেলবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আন্দোলনে দেশের যুবসমাজের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিলেও এবার সেখানে থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ভারতের শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবাদী আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনম ওয়াংচুক। পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে নিজ গ্রামের হিমালয় হ্রদসমূহকে নেপালের মতো উপচে পড়ে বন্যার সৃষ্টি করা থেকে রোধ করতে সেখাানে সময় দেওয়ায় দিল্লীতে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক জানান, ‘লাদাখের পাহাড় থেকে সবাইকে নমস্কার। এখানে শীত আসতে চলেছে। আমরা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি যেটা হিমবাহ গলে পানিতে পরিণত হওয়া হ্রদগুলোকে ফেটে পড়া থেকে বাঁচাবে।’
তিনি বলেন, অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন আমি কোথায় আছি, কেনো চুপ করে আছি?দিল্লীতে আন্দোলনে কেন নেই? আমি আপনাদের সবাইকে সাধুবাদ জানাই যারা দেশের উপর ঘনিয়ে আসা রাজনৈতিক বিপদ এড়াতে সচেষ্ট হয়েছেন। সেখানে আমি বলব সব বিপদ শুধু রাজনৈতিক নয় কিছু বিপদ প্রাকৃতিকও। ফয়েজ সাহেবের মতো করে আমি বলতে চাই, যমানায় মোহাব্বত ছাড়াও আরও অনেক দুঃখ আছে, যমানায় রাজনীতি ছাড়াও আরও অনেক দুঃখ আছে, মিলনের স্বস্তি ছাড়াও আরও অনেক স্বস্তি আছে।’
তিনি জানান, আমাকে আগের মতো পাশে খুঁজবেন না। আগের মতো হয়ত আমি এবার আসতে পারবো না। কারণ যখন আগে উনুনে আগুন জ্বালাত হতো তখন দেশলাই কাঠির প্রয়োজন হতো। যখন একবার উনুন জ্বলতে শুরু করে তখন সেখানে শুধু রান্না হতে থাকে। তাই আমার আশা আপনারা ওদিকে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান করবেন আর আমরা এদিকে প্রাকৃতিক সমস্যা সমাধান করবো। আপনারা জানেন গেল কয়েক সপ্তাহ আগে নেপালের একটি হ্রদ ফেটে যাওয়ায় কত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংগঠিত হয়েছিল। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আপনারা জানেন এর আগে সিকিমের লোনাক হ্রদ ফেটে গিয়ে কেমন ধ্বংসলীলা চলেছিল। এখানে আমি আমার গ্রামের একটা ঝর্ণায় দাড়িয়ে আছি, যেখানে কয়েক বছর আগে হওয়া একটি বন্যায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল।’
তিনি সাবধান করে বলেন, ‘বিজ্ঞানীরা বলছেন হিমালয় অঞ্চলে এরকম প্রায় দু’শোটি হ্রদ ফেটে যাওয়ার উপক্রম অবস্থায় আছে। সেগুলোকে আগে থেকে নিস্ক্রিয় করার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় যেরকমটা আমরা করে আসছি। তাই এই বিপদগুলোকে এড়ানোর মাধ্যমে দেশকে বিপদ থেকে বাচাঁনো ততটাই প্রয়োজন যতটা রাজনেতিকভাবে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে আপনারা করছেন।’
সবশেষ তিনি আহ্বান জানান, ‘তাই আমি আপনাদের সবাইকে বলব আপনারা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিবাদ করবেন। যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের বলব ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবেন। একতায় বল আছে , আলাদা আলাদা হয়ে নয় সবাই এক হয়ে লড়াই করবেন । আর সাধারণ জনতাকে আমি বলব আপনারা ধৈর্য ও শান্তির পথ ত্যাগ করবেন না। শান্তি বজায় রাখুুন, জয় আপনাদের হবে। আর কখনো যদি উনুন নিভে যায় তাহলে এই নগন্য দিয়াশলাইকে মনে করবেন।’