১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫

বিক্ষোভের আগেই ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি  © সংগৃহীত

ভারতের দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লিতে বিক্ষোভে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটের দিকে দিল্লি পুলিশের একটি দল ধ্রুব রাঠির বাসায় প্রবেশ করে। সে সময় তার মা দরজা খুলে দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য জড়ো হয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর সেন্ট্রাল পার্ক বিহার আবাসন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন ধ্রুব রাঠি।

গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ধ্রুব রাঠিকে দিল্লিতে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছিল। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি যদি নির্দেশ অমান্য করেন এবং দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে আটক করা হবে।’

পুলিশের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে পরে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে আটকের পর তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে সিজেপি। ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির একটি এলাকায় প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। দিল্লির বাইরেও বিক্ষোভের সমর্থকদের আটকের খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মেট্রো স্টেশন, রেল চলাচল ও ইন্টারনেট সেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনে তল্লাশি এবং সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অবশ্য জানিয়েছেন, বিধিনিষেধ সত্ত্বেও স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা পরিকল্পনা অনুযায়ী যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেবেন। গণপরিবহন বন্ধ করে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ানোর বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অসন্তোষ থেকে সিজেপির উদ্যোগে ধারাবাহিক প্রতিবাদ শুরু হয়। সংগঠনটি এই আন্দোলনকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরেছে।