০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৬

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েই ট্রাম্পকে ‘রোস্ট’ পিল্লাইয়ের

ট্রাম্প ও নাভি পিল্লাই   © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কৌতুকের ছলে ‘রোস্ট’ করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ট্রাম্পের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা আরও জোরে হাততালি দিলে পুরস্কারটি তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন।

নুরেমবার্গ আদালতে একটি একাডেমিক ও আইনবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে তার এই মন্তব্য দেখা যায়।

হাততালির মধ্য দিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশের পর উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরও একটু জোরে হাততালি দেন, তাহলে আমি হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও আইন বিশেষজ্ঞ পিল্লাইকে ‘যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার’ স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমন এক সময়ে পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যখন ‘আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রমণের শিকার হচ্ছে’।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার পেতে নিজের আগ্রহের কথা তিনি কখনো গোপন করেননি। এমনকি তাকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির ওপরও বিভিন্ন সময়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন কিছু কাজ করেছি, যা আর কেউ কখনো করেনি। আমি বড়াই করছি না, শুধু সত্য কথাগুলো বলছি। সম্ভবত কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো এতগুলো যুদ্ধের অবসান ঘটাননি। আমি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি।’

গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। সে সময় ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র ও শান্তি আন্দোলনের কর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে পুরস্কার দেয় নোবেল কমিটি। মাচাদো ভেনেজুয়েলার কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়ায় হোয়াইট হাউস কমিটির বিরুদ্ধে ‘শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগ তোলে।

পরে মাচাদো প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তিনি এটিকে ‘আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বছর পুরস্কার ঘোষণাকে ঘিরে চাপের বিষয়টি নোবেল কমিটির বক্তব্যেও উঠে এসেছে। কমিটি বলেছে, ‘আমরা দেখছি, আইনি কাঠামো এবং আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার বিনিময়ে ক্ষমতার রাজনীতির দিকে ঝোঁক বাড়ছে। যখনই ন্যায়ের চেয়ে শক্তি প্রাধান্য পায়, তখন তা স্থিতিশীলতা, আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে দুর্বল করে।’

কমিটি আরও বলেছে, ‘এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায় যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসনই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অহিংস উপায়ে সংঘাত নিরসনের জন্য গড়ে তোলা ব্যবস্থার ভিত্তি। শান্তির জন্য ন্যায়বিচার প্রয়োজন।’

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ফ্রিডনেস বলেন, ‘এটি একটি বার্তা যে আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্বের ভিত্তি। তাই আমরা আশা করি, এই পুরস্কার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং নাভি পিল্লাইয়ের পাশাপাশি বিশেষ করে তার মতো ব্যক্তিদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’

পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা এবং ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো অন্যদের’ পক্ষে আইনি লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) বিচারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করেন তিনি।

এ ছাড়া গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেছেন পিল্লাই। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।