০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩১

রসায়নে নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই, নেপথ্যে যে উদ্ভাবন

রসায়নে নোবেল পেলেন বিজ্ঞানী হেনরি বি. কাগান ও কেনসো সোয়াই  © সংগৃহীত

রসায়নের দীর্ঘদিনের এক রহস্য, প্রকৃতিতে কেন একই অণুর দুই আয়না-প্রতিবিম্বের মধ্যে মাত্র একটিকে জীবন ব্যবহার করে—তার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই ফরাসি-জাপানি রসায়নবিদ হেনরি বি. কাগান ও কেনসো সোয়াই। অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার প্রভাব ও অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

জীবনের মৌলিক অণুগুলোকে রসায়নে হোমোকাইরাল বলা হয়। ‘হোমোকাইরাল’ শব্দটির অর্থ একই ধরনের হাত বা দিক। মানুষের দুই হাত যেমন একে অপরের আয়না-প্রতিবিম্ব হলেও একই নয়, তেমনি অনেক রাসায়নিক অণুরও দুটি আয়না-প্রতিবিম্ব বা ভিন্ন রূপ থাকে।

অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্ষেত্রেও এমন দুটি রূপ রয়েছে। তবে জীবিত প্রাণীর কোষে থাকা প্রোটিনে সাধারণত এই দুই রূপের মাত্র একটিই ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ডিএনএর অংশ হিসেবে থাকা শর্করার ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিষয় দেখা যায়। এসব অণুর দুটি আয়না-প্রতিবিম্ব থাকলেও জীবন কেবল একটিকে ব্যবহার করে।

দীর্ঘদিন ধরে রসায়নবিদদের প্রশ্ন ছিল, জীবনের এই একমুখী বা ‘হোমোকাইরাল’ বৈশিষ্ট্য কীভাবে তৈরি হলো। কাগান ও সোয়াইয়ের গবেষণা এই রহস্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পথ দেখিয়েছে।

হেনরি বি. কাগান রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর মাধ্যমে আগে যতটা সম্ভব বলে ধারণা করা হতো, তার চেয়েও বেশি পরিমাণে একটি নির্দিষ্ট আয়না-প্রতিবিম্ব তৈরি করা সম্ভব হয়।

কাগানের এই আবিষ্কার ওষুধ, সুগন্ধি, খাবারের স্বাদ তৈরির উপাদান এবং নতুন ধরনের উপকরণ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরিতে বড় পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে কোনো রাসায়নিক অণুর নির্দিষ্ট একটি রূপ প্রয়োজন হলে তার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে এ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে, কেনসো সোয়াই এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরি করেন, যেখানে সম্ভাব্য দুই আয়না-প্রতিবিম্বের মধ্যে মাত্র একটিকে তৈরি করা সম্ভব হয়। জীবনের বাইরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এমন সাফল্য এর আগে দেখা যায়নি।

সোয়াইয়ের উদ্ভাবিত এই বিক্রিয়া ‘সোয়াই রিঅ্যাকশন’ নামে পরিচিত। রসায়নের অন্যতম চমকপ্রদ পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে এটি বিবেচিত হয়। এই বিক্রিয়ায় অটোক্যাটালাইসিসের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ধরনের অণুর আধিক্য আরও বাড়তে থাকে।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কাগান ও সোয়াইয়ের গবেষণা দেখিয়েছে কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সামান্য অসমতা নিজেই আরও বড় অসমতা তৈরি করতে পারে। এ গবেষণা শুধু জীবনে কেন একটি নির্দিষ্ট ধরনের অণু ব্যবহৃত হয়, সেই রহস্য বোঝার ক্ষেত্রেই নয়, আধুনিক ওষুধ ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।