লুলা নাকি ফ্লাভিও—কে হবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, ফয়সালা দ্বিতীয় দফায়
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় কেউই প্রত্যাশিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবার দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হচ্ছেন। আগামী ২৫ অক্টোবরের ভোটেই জানা যাবে, লুলা নাকি ফ্লাভিও—কে হবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। রোববার দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
৯৭ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ফ্লাভিও বলসোনারো বৈধ ভোটের ৪৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ পেয়েছেন। অন্যদিকে বামপন্থী লুলা পেয়েছেন ৪৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভোট। বেশির ভাগ বেসরকারি জরিপের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে প্রথম দফায় এগিয়ে গেছেন ফ্লাভিও।
প্রথম দফায় ১২ জন প্রার্থীর কেউই মোট ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পাওয়ায় শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলে প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ভোটার এবার ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত। জইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। চার বছর আগে লুলার কাছে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর অভ্যুত্থানের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরিকল্পনার জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ব্রাজিলের সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির মধ্যেও এবারের নির্বাচনী প্রচারে নীতিগত বিতর্ক খুব বেশি দেখা যায়নি। প্রধান দুই প্রার্থীই গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন বিতর্কগুলো এড়িয়ে গেছেন।
ফল ঘোষণার পর ৮০ বছর বয়সী লুলা বলেন, ফলাফলটি ‘অপ্রত্যাশিত’। চতুর্থবারের মতো, তবে ধারাবাহিকভাবে নয়, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়াই করা লুলা জানান, আগামীকাল থেকেই নতুন নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে।
অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে ব্রাজিলের মানুষ পরিবর্তন চায়।
নির্বাচনের আগে বেসরকারি জরিপগুলোতে লুলা প্রথম দফার ভোটে প্রায় ৩ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফ্লাভিও বলসোনারো এগিয়ে যাওয়ায় লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী প্রার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যের তালিকায় আরেকটি জয় যুক্ত হলো। তবে নির্বাচনের প্রকৃত পরীক্ষা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।
ফ্লাভিওর দল লিবারেল পার্টিও জাতীয় কংগ্রেস নির্বাচনে ভালো করেছে। এবার নিম্নকক্ষের ৫১৩টি আসন এবং সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়েছে।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর স্ত্রী এবং ফ্লাভিওর সৎমা মিশেল বলসোনারোও ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।
২০১৬ সালে লুলার মিত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অভিশংসনের পর ব্রাজিলের রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রভাব আরও বেড়েছে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নির্বাচনী প্রচারে নীতিগত আলোচনা অনেকটাই আড়ালে ঠেলে দিয়েছে।
সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাংকো মাস্টারকে ঘিরে বিতর্ক ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় একটি অংশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাংকটির প্রধান ড্যানিয়েল ভোরকারোকে চলতি বছরের শুরুতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে ব্যাংকারের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস থেকে শুরু করে ফ্লাভিও বলসোনারোর সম্পর্কও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকটির ঘটনায় অর্থপাচারের অভিযোগে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধেও ফেডারেল পুলিশ তদন্ত করছে।
তবে মোরায়েস ও ফ্লাভিও—দুজনই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়জুড়ে লুলার মিত্ররা সতর্ক করে বলেছেন, লুলা জয়ী হলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। এর পক্ষে তারা ব্রাজিলে মার্কিন কর্মকর্তাদের পাঠানোর একটি বাতিল হয়ে যাওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানাননি। তবে তিনি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং প্রকাশ্যে তার প্রশংসাও করেছেন।
রোববার বিকেলে ব্রাজিলের নির্বাচন আদালতের প্রধান কাসিও নুনেস মার্কেস বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতিতে পরিচালিত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই এগোচ্ছে।