ভোল পাল্টে বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্যসভার মনোনয়ন পেলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক
তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দল বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে কোয়েল মল্লিকের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে হাতে দলের পতাকা তুলে দেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী। এ সময় দলের রাজ্য মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক অনুপম ঘোষ ও সহ-আহ্বায়ক চন্দ্রশেখর বাসোটিয়া উপস্থিত ছিলেন। পরে বিধানসভায় গিয়ে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন কোয়েল।
বিজেপিতে যোগ দিয়ে কোয়েল বলেন, ‘বিগত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নযাত্রা চলছে। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গে আরও কাজ আসুক।’ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে যুক্ত হতে চাই।’
রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান কোয়েল। তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য।
তবে নতুন দলে যোগ দিয়ে পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য করতে চাননি কোয়েল। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা দল নিজেদের মতো ভাল কাজ করার চেষ্টা করে। কাউকে ছোট না-করে বলতে পারি আমি এমন একটা দলে যোগ দিতে পেরেছি, যারা উন্নয়নের কাজ শেষ কয়েক মাস ধরে ভাল করছে।’
সমাজমাধ্যমে যারা তার সমালোচনা করছেন, তাদেরও ক্ষমা করে দেওয়ার বার্তা দেন কোয়েল। ভবিষ্যতের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সবার জন্য কাজ করতে চাই, সবার মঙ্গল কামনা করি।’
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে রাজ্য পুলিশের সাবেক ডিজি রাজীব কুমার, সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করেছিল। মার্চে নির্বাচন শেষে ৬ এপ্রিল তৃণমূলের সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় শপথ নেন কোয়েল। তবে কোনো অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগেই ১৬ জুলাই সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।
কোয়েলের পদত্যাগের পর থেকেই তার বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। ইস্তফা দেওয়ার দিনই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পরে বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যসভা উপনির্বাচনে কোয়েলকে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কোয়েলের আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকও সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে তিনজনই বিজেপিতে যোগ দেন এবং রাজ্যসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হন। কোয়েলও এবার সেই ধারায় বিজেপির প্রার্থী হলেন।
কোয়েল যে আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর রাজ্যসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।