০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২০

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে টালমাটাল দিল্লী, আটক ৭ শতাধিক 

নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের চেয়ে করা বিক্ষোেভ থেকে আটক করছে দিল্লী পুলিশ   © সংগৃহীত

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত ৭০০-র বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আম আদমি পার্টির (আপ) নেত্রী ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরা।

বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভ থেকে ‘জ্ঞানেশ কুমার গদি ছাড়ো’ স্লোগানও দেওয়া হয়।

আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংহের দাবি, সংসদে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ধর্নায় বসেন তিনি। বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তর থেকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এভাবে বিক্ষোভকারীদের আটকের নিন্দা করেছে বিরোধী দলগুলো।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের আটকের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই।’ আইসা নেত্রী নেহা বোরার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘যা ইচ্ছা দিল্লি পুলিশ, তা-ই করুক। আমরাও দেখছি।’

শুক্রবার এসএফআই ও ডিওয়াইএফআইয়ের কর্মীদের পাশাপাশি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকেও আটক করা হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার গণতন্ত্রের হত্যাকারী। অবৈধ কাজ করা মানুষদের গ্রেফতার না-করে আমাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শুক্রবার সকালে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ একটি নির্দেশিকা জারি করে। এতে কনট প্লেস, প্যাটেল চক, তলস্তয় মার্গ এবং সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের ১১টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়। এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে নয়াদিল্লি, লোককল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সেবাতীর্থ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও প্যাটেল চক।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে মহারাষ্ট্রের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের পর কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়ায় ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি পালন করা হবে। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষে তারা আবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামবেন। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযান শুরু করছে। আগামী ৮ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা এবং জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬ অক্টোবর বিরোধী দলগুলোর সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে পদযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।